গ্যাজেট

স্মার্টওয়াচ ও ফিটনেস ব্যান্ডে বাড়ছে আগ্রহ : স্বাস্থ্য সচেতনতাই চালিকাশক্তি

Rate this post

 

দেশের গ্যাজেট বাজারে স্মার্টওয়াচ ও ফিটনেস ব্যান্ডের চাহিদা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। একসময় যেগুলো ছিল প্রযুক্তিপ্রেমী বা তরুণদের সীমিত আগ্রহের মধ্যে, এখন সেগুলো ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য সচেতনতার বাড়তি গুরুত্ব এই পরিবর্তনের প্রধান কারণ হিসেবে উঠে আসছে।

বাজারসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাঁটার সংখ্যা গণনা, হৃদ্‌স্পন্দন পর্যবেক্ষণ, ক্যালোরি খরচের হিসাব কিংবা ঘুমের মান বিশ্লেষণ—এ ধরনের ফিচার এখন অনেক ব্যবহারকারীর কাছে প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে। করোনাকাল পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্য নিয়ে ব্যক্তিগত সচেতনতা যেভাবে বেড়েছে, স্মার্টওয়াচ ও ফিটনেস ব্যান্ড সেই প্রবণতাকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।

স্মার্টওয়াচ ও ফিটনেস ব্যান্ডে বাড়ছে আগ্রহ : স্বাস্থ্য সচেতনতাই চালিকাশক্তি
স্মার্টওয়াচ ও ফিটনেস ব্যান্ডে বাড়ছে আগ্রহ : স্বাস্থ্য সচেতনতাই চালিকাশক্তি

বিশেষ করে তরুণদের পাশাপাশি মধ্যবয়সী চাকরিজীবী ও গৃহস্থদের মধ্যেও এসব ডিভাইসের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে। আগে যেখানে ফিটনেস ব্যান্ড ছিল মূলত জিমে যাওয়া বা নিয়মিত ব্যায়ামকারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ, এখন অফিসগামী মানুষ কিংবা হালকা শরীরচর্চায় আগ্রহীদের হাতেও দেখা যাচ্ছে এই ডিভাইস।

ঢাকার একটি গ্যাজেট বিপণন প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় ব্যবস্থাপক জানান, “আগে ক্রেতারা স্মার্টওয়াচকে ফ্যাশন অ্যাকসেসরিজ হিসেবে দেখতেন। এখন তারা স্বাস্থ্যসংক্রান্ত ফিচারগুলো নিয়ে বেশি প্রশ্ন করেন। ব্যাটারি কতদিন চলে, হার্ট রেট কতটা নির্ভুল—এসব বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে।”

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, কম দামের ফিটনেস ব্যান্ড থেকে শুরু করে মাঝারি দামের স্মার্টওয়াচ—সব শ্রেণিতেই বিক্রি বেড়েছে। অনেক ব্যবহারকারী স্মার্টফোন বারবার বের না করেও হাতের ঘড়িতেই কল, বার্তা বা অ্যাপ নোটিফিকেশন দেখতে চান। এতে সময় বাঁচার পাশাপাশি কাজের গতি বাড়ছে বলে মনে করছেন তারা।

তবে এই গ্যাজেটগুলোর তথ্যের নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্নও উঠছে। চিকিৎসকেরা বলছেন, স্মার্টওয়াচ বা ফিটনেস ব্যান্ড স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণে সহায়ক হলেও এগুলোকে চিকিৎসা যন্ত্র হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়। একজন হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞ বলেন, “এগুলো প্রাথমিক ধারণা দিতে পারে, কিন্তু কোনো অস্বাভাবিক ফলাফল দেখা গেলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।”

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের জায়গা হলো ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা। এসব ডিভাইসে ব্যবহারকারীর হৃদ্‌স্পন্দন, ঘুমের সময়সূচি কিংবা দৈহিক কার্যকলাপের মতো সংবেদনশীল তথ্য সংরক্ষিত থাকে। কিন্তু সেই তথ্য কোথায় সংরক্ষিত হচ্ছে এবং কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে—তা নিয়ে অনেক ব্যবহারকারীই স্পষ্ট ধারণা রাখেন না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিভাইস কেনার সময় তথ্য সুরক্ষা নীতিমালা ভালোভাবে দেখে নেওয়া জরুরি।

সব মিলিয়ে বাজার পর্যবেক্ষকদের ধারণা, আগামী দিনে স্মার্টওয়াচ ও ফিটনেস ব্যান্ডের জনপ্রিয়তা আরও বাড়বে। স্বাস্থ্য সচেতনতা যেমন বাড়ছে, তেমনি দাম তুলনামূলকভাবে সহজলভ্য হওয়ায় নতুন ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ছে। তবে সচেতন ব্যবহারই পারে এই প্রযুক্তির সুফলকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করতে।

Related Articles

Back to top button