আইফোন ১৭–এর সাফল্যে স্বস্তি পাচ্ছে অ্যাপল, এআই ফিচার নিয়ে কমেছে শঙ্কা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার আলোচনা চলছিল দীর্ঘদিন ধরেই। প্রযুক্তি বিশ্বে যখন ওপেনএআই, গুগল ও মাইক্রোসফটের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এআই নিয়ে আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছে, তখন অ্যাপলকে দেখা যাচ্ছিল অপেক্ষাকৃত নীরব। তবে সাম্প্রতিক ত্রৈমাসিক আয়–প্রতিবেদন ইঙ্গিত দিচ্ছে, আইফোন ১৭–এর সাফল্যে আপাতত স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে কুপারটিনোভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, চলতি প্রান্তিকে অ্যাপলের মোট রাজস্ব দাঁড়িয়েছে ১৪৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এই আয়ের বড় অংশ এসেছে আইফোন থেকে। শুধু এই খাত থেকেই এসেছে ৮৫ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার, যা বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে গেছে।

অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টিম কুক জানিয়েছেন, এই প্রান্তিকে আইফোন আপগ্রেডের হার ছিল রেকর্ড পরিমাণ। একই সঙ্গে অ্যান্ড্রয়েড ফোন ছেড়ে আইফোনে আসা ব্যবহারকারীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত অ্যাপল ডিভাইসের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫০ কোটিতে।
বিশেষভাবে নজর কাড়ছে চীনা বাজার। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যেখানে অ্যাপলকে বেশ চাপের মধ্যেই থাকতে হয়েছে, সেখানে এবার আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে। এক বছর আগে এই অঙ্ক ছিল ১৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার।
তবে এই সাফল্যের আড়ালে চ্যালেঞ্জও আছে। ২০২৫ সালে শুল্কসংক্রান্ত জটিলতা ও নতুন সিরি চালু করতে বিলম্ব অ্যাপলকে বিব্রত করেছে। কুক জানিয়েছেন, এ বছরই নতুন সিরি উন্মোচন করা হবে।

এরই মধ্যে অ্যাপল গুগলের সঙ্গে এআই ও ক্লাউড প্রযুক্তি নিয়ে সহযোগিতার ঘোষণা দিয়েছে। এতে অ্যাপলের এআই মডেল এবং ভবিষ্যৎ সিরির প্রযুক্তিগত ভিত্তি আরও শক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে ডেটা সেন্টারের চাহিদা বাড়ায় প্রযুক্তি খাতে মেমোরি সংকটের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। অ্যাপলের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এই সংকটের প্রভাব সীমিত হলেও সামনে চাপ বাড়তে পারে।





