২০২৬ সালে নতুন কোনো ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন বাজারে আনবে না নাথিং
২০২৬ সালে নতুন কোনো ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন বাজারে আনবে না যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নাথিং (Nothing)। কোম্পানির বর্তমান ফ্ল্যাগশিপ মডেল Nothing Phone 3-ই পুরো বছরজুড়ে প্রধান ফোন হিসেবে থাকবে। নাথিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কার্ল পেই এক ভিডিও বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছেন।
কৌশল বদলের ব্যাখ্যা
ভিডিওতে কার্ল পেই বলেন, প্রতি বছর ফ্ল্যাগশিপ ফোন আনার প্রচলিত ধারায় বিশ্বাসী নয় নাথিং। তাদের লক্ষ্য হলো অর্থবহ আপগ্রেড—যাতে নতুন মডেল বাজারে আনার পেছনে স্পষ্ট কারণ থাকে। তিনি জানান, কোম্পানি এখন ‘ফেজ টু’-তে প্রবেশ করেছে, যেখানে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে পণ্য পরিপক্বতা ও স্কেলিংয়ে।

Phone 4a আসছে
ফ্ল্যাগশিপ না এলেও ২০২৬ সালে মিড-রেঞ্জ বাজারে সক্রিয় থাকবে নাথিং। Nothing Phone 4a মডেলটি বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে, যা Phone 3a সিরিজের তুলনায় পূর্ণাঙ্গ আপগ্রেড হবে বলে জানিয়েছেন পেই। ডিজাইন, নির্মাণ উপকরণ, ডিসপ্লে, ক্যামেরা ও পারফরম্যান্সে উন্নতির পাশাপাশি রঙ ব্যবহারে আরও সাহসী পরীক্ষা দেখা যেতে পারে।
অডিও পণ্যে জোর
২০২৬ সালে নাথিংয়ের বড় লক্ষ্য অডিও বিভাগ। বিশেষ করে ওভার-ইয়ার হেডফোন ক্যাটাগরিতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। Nothing Headphone 1 প্রত্যাশার চেয়ে ভালো সাড়া পেয়েছে এবং একাধিক পুরস্কার জিতেছে বলে জানান পেই। ভবিষ্যতে অডিও পণ্য নাথিংয়ের অন্যতম প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্র হবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
সফটওয়্যার ও ‘এসেনশিয়াল অ্যাপস’
সফটওয়্যার দিক থেকেও কিছু পরিবর্তনের কথা জানিয়েছে নাথিং। আসছে Nothing OS 4.0, পাশাপাশি ‘Essential Apps’ নামের একটি নতুন ধারণা নিয়ে কাজ চলছে। এই ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা বর্ণনার মাধ্যমে অ্যাপ বা উইজেট তৈরি করতে পারবেন। বর্তমানে এটি আলফা পর্যায়ে রয়েছে এবং শুরুতে Phone 3-এর জন্য এক্সক্লুসিভ থাকবে।

দাম বাড়ার ইঙ্গিত
ভিডিওতে কার্ল পেই স্মার্টফোনের দাম বাড়ার ইঙ্গিতও দেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে চাহিদা বাড়ায় র্যামের দাম বেড়েছে, যা স্মার্টফোন নির্মাতাদের ওপর চাপ তৈরি করছে। পেই বলেন, এমন পরিস্থিতিতে হয় দাম বাড়াতে হবে, নয়তো স্পেসিফিকেশন কমাতে হবে—নাথিং সম্ভবত প্রথম পথেই হাঁটবে।
নতুন সদর দপ্তর ও ভারত পরিকল্পনা
নাথিং ২০২৬ সালে লন্ডনে নতুন গ্লোবাল সদর দপ্তর চালু করবে। পাশাপাশি ভারতের বেঙ্গালুরুতে দ্বিতীয় ফিজিক্যাল স্টোর খোলার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। কার্ল পেইয়ের ভাষায়, এসব স্টোর কেবল বিক্রির জায়গা নয়, বরং ব্র্যান্ড অভিজ্ঞতার কেন্দ্র।





