রেনো১৫ সিরিজ ফাইভজি ও পাঠশালার আয়োজনে স্মার্টফোন ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতা
ফটোগ্রাফি শুধু শাটারে চাপ দেওয়া নয়। এটি আলো দিয়ে লেখা স্মৃতি। ফ্রেমে ধরা আবেগ। সময় পেরিয়ে টিকে থাকা গল্প।
এই ভাবনাকেই সামনে রেখে অপো বাংলাদেশ ও পাঠশালা সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব ফটোগ্রাফি যৌথভাবে আয়োজন করেছে জাতীয় ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতা—‘অপো রেনো১৫ সিরিজ ফাইভজি ফটোগ্রাফি কন্টেস্ট’। প্রতিযোগিতার মূল প্রতিপাদ্য, ‘Every Photo Tells a Story’।
আয়োজকেরা বলছেন, এটি কেবল ছবি তোলার প্রতিযোগিতা নয়। বরং গল্প বলার এক সৃজনশীল প্ল্যাটফর্ম।

পাঁচ বিভাগে ছবি জমা
প্রতিযোগিতায় পাঁচটি বিভাগ রাখা হয়েছে। পোর্ট্রেট, নেচার ও ওয়াইল্ডলাইফ, স্ট্রিট ও আর্কিটেকচার, লো-লাইট, এবং হেরিটেজ ও কালচার।
অংশগ্রহণকারীদের এমন ছবি পাঠাতে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যা শুধু সুন্দর নয়—অর্থবহও। ছবিতে যেন ফুটে ওঠে মানুষ, পরিচয়, প্রেক্ষাপট ও আবেগ। প্রতিটি ছবির সঙ্গে গল্প বলার উপাদান থাকাই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতার মেলবন্ধন
অপো বলছে, প্রযুক্তি তখনই অর্থবহ, যখন তা মানুষের অনুভূতি প্রকাশে সহায়তা করে। রেনো১৫ সিরিজ ফাইভজি সেই ভাবনা থেকেই তৈরি। দিনের আলো হোক বা স্বল্প আলো—জটিল পরিবেশেও বিস্তারিত ও আবেগপূর্ণ ছবি ধারণে এই সিরিজ সক্ষম বলে দাবি প্রতিষ্ঠানটির।
এই দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে মিল খুঁজে পায় পাঠশালা সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব ফটোগ্রাফিও। ডকুমেন্টারি চর্চা, ভিজ্যুয়াল শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক গল্প বলায় আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত এই প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ এশিয়ায় ভিজ্যুয়াল ন্যারেটিভ গড়ে তুলছে।
দুই প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে তৈরি হয়েছে এমন একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে ফটোগ্রাফির শৈল্পিক দিকের পাশাপাশি গুরুত্ব পাচ্ছে সৃজনশীল স্বাধীনতাও।
অভিজ্ঞ জুরিবোর্ড
জমা পড়া ছবিগুলো মূল্যায়ন করবেন দেশের ডকুমেন্টারি ও শিক্ষামূলক ফটোগ্রাফি জগতের পরিচিত ব্যক্তিরা। জুরিবোর্ডে রয়েছেন পাঠশালার ফটোগ্রাফি বিভাগের প্রধান খন্দকার তানভীর মুরাদ, খ্যাতিমান ডকুমেন্টারি ফটোগ্রাফার রেজোয়ানা চৌধুরী জিনিয়া, শফিকুল আলম কিরণ এবং কেএম আসাদ।
নান্দনিকতার পাশাপাশি ছবির গল্প বলার ক্ষমতা, সত্যতা, আবেগের গভীরতা ও প্রেক্ষাপট বোঝাপড়ার ভিত্তিতে বিজয়ী নির্বাচন করা হবে।
যেভাবে অংশ নেবেন
অংশগ্রহণ প্রক্রিয়া সহজ রাখা হয়েছে। আগ্রহীরা নির্ধারিত প্ল্যাটফর্মে গিয়ে মোবাইল নম্বর ও ইমেইল দিয়ে নিবন্ধন করতে পারবেন। এরপর পছন্দের বিভাগ নির্বাচন করে জেপিইজি বা পিএনজি ফরম্যাটে উচ্চমানের ছবি আপলোড করতে হবে।
প্রতিটি ছবির সঙ্গে যুক্ত করতে হবে একটি সংক্ষিপ্ত লেখা। সেখানে ছবির পেছনের গল্প, প্রেক্ষাপট বা আবেগের ব্যাখ্যা দিতে হবে। আয়োজকদের ভাষায়, এই গল্প বলার অংশটিই প্রতিযোগিতার প্রাণ।
আকর্ষণীয় পুরস্কার
প্রতিযোগিতায় রয়েছে নানা পুরস্কার। গ্র্যান্ড উইনার পাবেন নগদ ১ লাখ টাকা, অপোর সর্বশেষ ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন এবং পাঠশালায় একটি পেশাদার ফটোগ্রাফি কোর্সে অংশ নেওয়ার সুযোগ।
দ্বিতীয় পুরস্কার বিজয়ী পাবেন ৫০ হাজার টাকা, একটি অপো স্মার্টফোন ও কোর্স। তৃতীয় পুরস্কার ৩০ হাজার টাকা, স্মার্টফোন ও কোর্স।
এ ছাড়া পাঁচটি বিভাগের প্রতিটি থেকে পাঁচজন করে বিজয়ী নির্বাচন করা হবে। তাঁরা প্রত্যেকে পাবেন ২০ হাজার টাকা, একটি অপো স্মার্টফোন এবং পাঠশালার কোর্সে অংশ নেওয়ার সুযোগ।
লক্ষ্য একটি জীবন্ত ভিজ্যুয়াল আর্কাইভ
পুরস্কারের বাইরেও এই আয়োজনের বড় লক্ষ্য রয়েছে। আয়োজকেরা চান, সমসাময়িক বাংলাদেশের একটি জীবন্ত ভিজ্যুয়াল আর্কাইভ তৈরি হোক। মানুষের জীবন, স্থান, ঐতিহ্য ও পরিবর্তনের গল্প যেন ছবির মাধ্যমে সংরক্ষিত থাকে।
উদীয়মান থেকে পেশাদার—সব স্তরের ফটোগ্রাফারদের অংশ নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে ২ ফেব্রুয়ারি। ছবি জমা দেওয়া যাবে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত। বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে ১৫ মে।
আয়োজকদের আহ্বান, যারা বিশ্বাস করেন একটি ছবিই অনেক কথা বলতে পারে—তাঁরাই অংশ নিন। একটি ফ্রেমেই ধরা থাকুক আপনার গল্প।






