প্রযুক্তি সংবাদ

বাংলাদেশে ১.৫ কোটির বেশি ভিডিও সরাল টিকটক

5/5 - (1 vote)

২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিকের কমিউনিটি গাইডলাইনস এনফোর্সমেন্ট রিপোর্ট প্রকাশ করেছে টিকটক। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর—এই তিন মাসের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। এতে কনটেন্ট শনাক্ত ও অপসারণে প্ল্যাটফর্মটির কার্যক্রমের চিত্র উঠে এসেছে।

টিকটক
টিকটক

রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশে এই সময়ে মোট ১ কোটি ৫৩ লাখ ৯২ হাজার ১২৯টি ভিডিও সরানো হয়েছে। এর মধ্যে ৯৯.৯ শতাংশ ভিডিও আগে থেকেই শনাক্ত করে অপসারণ করা হয়েছে। আর ৯৮.৪ শতাংশ ভিডিও ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের এআই-চালিত মডারেশন সিস্টেম আগের তুলনায় আরও উন্নত হয়েছে। ফলে কনটেন্ট শনাক্ত ও অপসারণের গতি বেড়েছে। পুরোনো ভিডিও খুঁজে বের করেও এখন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

তবে নতুন একটি পরিবর্তনও এসেছে। আগে যেখানে বেশি সংখ্যক কমেন্ট সরানো হতো, এখন আপত্তিকর কমেন্টের গুরুত্ব কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে কমেন্ট অপসারণের সংখ্যা কমেছে। চতুর্থ প্রান্তিকে বিশ্বজুড়ে মোট ২১ কোটি ৮৭ লাখ ৯৩ হাজার ৫৭২টি কমেন্ট সরানো হয়েছে। আগের প্রান্তিকে এই সংখ্যা ছিল প্রায় দ্বিগুণ।

অন্যদিকে ভুয়া লাইক ও ভুয়া ফলোয়ার শনাক্তে কঠোরতা বাড়িয়েছে টিকটক। প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা বজায় রাখতে এ ধরনের কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী একই সময়ে মোট ১৭ কোটি ৫৩ লাখ ২ হাজার ৮৫টি ভিডিও সরিয়েছে প্ল্যাটফর্মটি। যা মোট আপলোড হওয়া কনটেন্টের প্রায় ০.৫ শতাংশ। এর মধ্যে ১৫ কোটির বেশি ভিডিও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে।

পরবর্তীতে যাচাই করে ৮৩ লাখের বেশি ভিডিও আবার ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ ছাড়াই কনটেন্ট অপসারণের হার ছিল ৯৯.১ শতাংশ। আর ৯৩.৪ শতাংশ ভিডিও ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সরানো হয়েছে।

এই সময়ে প্ল্যাটফর্ম থেকে ১৪ কোটি ৭৭ লাখের বেশি ভুয়া অ্যাকাউন্ট সরানো হয়েছে। পাশাপাশি ১৩ বছরের কম বয়সী সন্দেহে আরও ২ কোটি ৩৮ লাখের বেশি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, অপসারিত ভিডিওর মধ্যে ২১.২ শতাংশ ছিল সংবেদনশীল বা প্রাপ্তবয়স্ক বিষয়বস্তু। এছাড়া ৯.১ শতাংশ ভিডিও প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা নীতিমালা ভঙ্গ করেছে। গোপনীয়তা লঙ্ঘনের কারণে সরানো হয়েছে ১.২ শতাংশ ভিডিও।

এছাড়া ভুল তথ্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ১.৬ শতাংশ ভিডিও। আর ১.৮ শতাংশ ভিডিও এআই-নির্ভর বা এডিট করা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট হিসেবে সরানো হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত কনটেন্ট শনাক্ত ও অপসারণের এই প্রবণতা প্ল্যাটফর্মটিকে আরও নিরাপদ করতে সহায়তা করবে। তবে একই সঙ্গে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা বজায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

Related Articles

Back to top button