আপনার স্মার্টফোন বনাম নব্বইয়ের দশকের সুপারকম্পিউটার
আজকের স্মার্টফোন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়। এটি এক অর্থে একটি শক্তিশালী সুপারকম্পিউটার— যার জায়গা একটি পকেটেই হয়ে যায়। মাত্র কয়েক দশক আগেও এমন কম্পিউটিং ক্ষমতা পেতে হলে প্রয়োজন হতো পুরো একটি কক্ষ, লক্ষ ডলারের যন্ত্রপাতি এবং বিপুল বিদ্যুৎ সরবরাহ।
আজ সেই শক্তিই ধরা দিচ্ছে আপনার হাতের মুঠোয়।

নব্বইয়ের দশকের কম্পিউটিং দানব
১৯৮৫ সালে তৈরি ক্রে–২ (CRAY-2) তৎকালীন বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতির সুপারকম্পিউটার ছিল। এর সর্বোচ্চ ক্ষমতা ছিল প্রায় ১.৯ গিগাফ্লপস। এই কম্পিউটারটি ব্যবহার করা হতো মার্কিন প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি দপ্তরের গবেষণায়। বিশেষ করে পারমাণবিক অস্ত্র ও সমুদ্রবিজ্ঞান সংক্রান্ত জটিল গণনায়।
এর আকৃতি ছিল নলাকার। অতিরিক্ত তাপ সামলাতে ব্যবহার করা হতো তরল শীতলীকরণ ব্যবস্থা। বিদ্যুৎ খরচও ছিল বিপুল। এরপর আসে এএসসিআই রেড (ASCI Red)। ১৯৯৭ সালে এটি প্রথম কম্পিউটার হিসেবে এক টেরাফ্লপস সীমা অতিক্রম করে।
এটি তৈরি করা হয়েছিল নিউক্লিয়ার পরীক্ষার বিকল্প হিসেবে পারমাণবিক মজুদের নিরাপত্তা যাচাইয়ের জন্য। এই সুপারকম্পিউটারটি ১৫০০ বর্গফুট জায়গা দখল করত এবং প্রায় ৮৫০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হতো। তখন এটি ছিল প্রযুক্তির শিখর।
আজকের স্মার্টফোন: সুপারকম্পিউটার হাতে
এখনের দিকে তাকালে চিত্রটা আমূল বদলে গেছে। আইফোন ১৫ প্রো বা স্ন্যাপড্রাগন ৮ জেন ৩–চালিত অ্যান্ড্রয়েড ফোন সহজেই পৌঁছে যাচ্ছে ২ টেরাফ্লপসের কাছাকাছি পারফরম্যান্সে।
অর্থাৎ, আজকের একটি স্মার্টফোন ক্রে–২–এর চেয়ে প্রায় হাজার গুণ বেশি শক্তিশালী এবং নব্বইয়ের দশকের সেরা সুপারকম্পিউটারের সমতুল্য। তফাৎটা হলো— এই শক্তি পাওয়া যাচ্ছে ৫ ওয়াটেরও কম বিদ্যুৎ খরচে, কোনো কুলিং রুম ছাড়াই।
শক্তির ব্যবহার বদলে গেছে
এই কম্পিউটিং ক্ষমতা এখন আর শুধু গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ নয়। আপনি এটি ব্যবহার করছেন ভিডিও স্ট্রিমিংয়ে, ৩ডি গেম খেলতে, এআই–চালিত ছবি সম্পাদনায়, নিরাপদ ভিডিও কলে, ডকুমেন্ট স্ক্যান করে পিডিএফ বানাতে। যা একসময় সাধারণ মানুষের কল্পনার বাইরে ছিল।

ল্যাব থেকে দৈনন্দিন জীবনে
একসময় সুপারকম্পিউটার ছিল রাষ্ট্র ও সামরিক গবেষণার হাতিয়ার। আজ, বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ এর চেয়েও শক্তিশালী ডিভাইস ব্যবহার করছে নিজেদের দৈনন্দিন প্রয়োজনে। চাঁদে মানুষ পাঠানোর সময় নাসার যেসব কম্পিউটার ছিল, আপনার ফোন তার চেয়েও শক্তিশালী।
পরেরবার ফোন আনলক করার সময় একবার ভেবে দেখুন— আপনি শুধু স্ক্রিন ছুঁছেন না, আপনি ছুঁছেন প্রযুক্তিগত অগ্রগতির কয়েক দশকের ইতিহাস। শক্তি এখন সত্যিই হাতের তালুতেই।






