স্মার্টফোন

নতুন অ্যান্ড্রয়েড ফোন হলে এখনই যেসব সেটিং চালু করা জরুরি

5/5 - (2 votes)

নতুন অ্যান্ড্রয়েড ফোন হাতে পাওয়ার আনন্দের সঙ্গে থাকে নতুন অভিজ্ঞতার উত্তেজনা। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আমরা ফোন সেটআপ করতে গিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফিচার চালু করতে ভুলে যাই। পরে প্রয়োজনের সময় সেই ফিচার না পেয়ে বিরক্তি তৈরি হয়। অবাক করার বিষয় হলো অ্যান্ড্রয়েডের অনেক দরকারি ও কার্যকর ফিচার ফোন কেনার পর ডিফল্টভাবে চালু থাকে না।

প্রযুক্তিবিশেষজ্ঞদের মতে, ফোনের নিরাপত্তা, ব্যবহার সহজ করা এবং দৈনন্দিন কাজের গতি বাড়াতে কিছু সেটিং শুরুতেই চালু করে নেওয়া উচিত। চলুন জেনে নেওয়া যাক অ্যান্ড্রয়েড ফোনে এখনই যেসব ফিচার চালু করা প্রয়োজন।

নোটিফিকেশন হিস্ট্রি

ফোনে আসা গুরুত্বপূর্ণ কোনো নোটিফিকেশন ভুল করে মুছে ফেলেছেন এমন অভিজ্ঞতা প্রায় সবারই আছে। অ্যান্ড্রয়েডে থাকা ‘নোটিফিকেশন হিস্ট্রি’ ফিচারটি চালু থাকলে আগের সব নোটিফিকেশন পরে গিয়ে দেখা সম্ভব। আশ্চর্যের বিষয়, বহু ফোনেই এই সুবিধা ডিফল্টভাবে বন্ধ থাকে। একবার চালু করলে কোন অ্যাপ কখন কী নোটিফিকেশন পাঠিয়েছে তা সহজেই জানা যায়।

ফাইন্ড হাব

ফোন হারিয়ে গেলে আতঙ্কের শেষ থাকে না। অথচ গুগলের ‘ফাইন্ড হাব’ বা ‘ফাইন্ড মাই ডিভাইস’ চালু থাকলে হারানো ফোনের অবস্থান জানা, রিং বাজানো কিংবা দূর থেকে লক করে দেওয়া সম্ভব। এই সুবিধা ব্যবহার করতে হলে গুগল অ্যাকাউন্টে সাইন ইন করে সেটিংস থেকে ফিচারটি আলাদাভাবে চালু করতে হয়। ফোন সেটআপের সময়ই এটি চালু করে নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।

চুরি শনাক্তকরণ

ফোন চুরি হলে শুধু ডিভাইস হারানোর ভয় নয়, ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের ঝুঁকিও থাকে। অ্যান্ড্রয়েডের চুরি শনাক্তকরণ ফিচার ফোনের নিরাপত্তা বাড়ায়। ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফোন লক হয়ে যায়। প্রয়োজনে দূর থেকে ফোন লক বা ডেটা মুছে দেওয়ার সুবিধাও থাকে। নিরাপত্তার স্বার্থে এই ফিচার চালু রাখা অত্যন্ত জরুরি।

ফ্লিপ টু শশ

ব্যস্ত সময়ে বা জরুরি মিটিংয়ে হঠাৎ ফোনের শব্দ বিরক্তিকর হয়ে উঠতে পারে। ‘ফ্লিপ টু শশ’ ফিচার চালু থাকলে ফোনটি উল্টো করে রাখলেই ডু নট ডিস্টার্ব মোড চালু হয়ে যাবে। আবার ফোন সোজা করলেই সব স্বাভাবিক। সহজ অথচ কার্যকর এই ফিচারটি অনেক ব্যবহারকারীই জানেন না।

নতুন অ্যান্ড্রয়েড ফোন হলে এখনই যেসব সেটিং চালু করা জরুরি
নতুন অ্যান্ড্রয়েড ফোন হলে এখনই যেসব সেটিং চালু করা জরুরি

বেডটাইম মোড

ঘুমের সময় ফোনের নোটিফিকেশন বড় ধরনের বিরক্তির কারণ হতে পারে। ‘বেডটাইম মোড’ চালু করলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফোন নীরব থাকবে, স্ক্রিন গ্রেস্কেল হয়ে যাবে এবং অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ থাকবে। জরুরি কল বা নির্দিষ্ট অ্যাপের নোটিফিকেশন চাইলে আলাদা করে অনুমতি দেওয়া যায়। ভালো ঘুমের জন্য এটি বেশ কার্যকর একটি ফিচার।

সিম্পল ভিউ

সব ব্যবহারকারী প্রযুক্তিতে সমান দক্ষ নন। প্রবীণ ব্যক্তি বা কম প্রযুক্তিবান্ধব ব্যবহারকারীদের জন্য ‘সিম্পল ভিউ’ মোড বেশ উপকারী। এতে আইকন ও লেখা বড় হয়, নেভিগেশন সহজ হয়। ফোন ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্য বাড়াতে এই মোড চালু করা যেতে পারে।

অ্যাডাপটিভ টোন

চোখের ওপর চাপ কমাতে ‘অ্যাডাপটিভ টোন’ ফিচার পরিবেশ অনুযায়ী স্ক্রিনের রং ও উজ্জ্বলতা সামঞ্জস্য করে। সব ফোনে না থাকলেও যেসব ফোনে রয়েছে, সেখানে অনেক সময় এটি ডিফল্টভাবে বন্ধ থাকে। দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে চোখের আরামের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ।

স্ক্রিন প্রটেক্টর মোড

অনেকেই ফোনে স্ক্রিন প্রটেক্টর ব্যবহার করেন। এতে টাচ সেনসিটিভিটি কমে যেতে পারে। ‘স্ক্রিন প্রটেক্টর মোড’ চালু করলে টাচ সংবেদনশীলতা বাড়ে এবং ইন-ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরও ভালো কাজ করে।

এক হাতে ব্যবহারের মোড

ফোনের আকার বড় হওয়ায় এক হাতে ব্যবহার অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। ‘ওয়ান-হ্যান্ডেড মোড’ চালু করলে পুরো স্ক্রিন নিচের দিকে নেমে আসে, ফলে এক হাতে ব্যবহার সহজ হয়।

জিবোর্ড ক্লিপবোর্ড

অ্যান্ড্রয়েডের জনপ্রিয় কিবোর্ড জিবোর্ডে থাকা ক্লিপবোর্ড ফিচার অনেকেই ব্যবহার করেন না। এটি চালু করলে কপি করা লেখা বা ছবি কিছু সময়ের জন্য সংরক্ষিত থাকে, যা পরে দ্রুত ব্যবহার করা যায়। নিরাপত্তার জন্য নির্দিষ্ট সময় পর তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যায়।

Related Articles

Back to top button