পুরোনো জিপিইউ বাঁচাতে এনভিডিয়ার ৫০০ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা। এনভিডিয়া এমন একটি বড় আর্থিক পরিকল্পনা করেছে, যার মাধ্যমে এআই ডেটা সেন্টার তৈরিতে সর্বোচ্চ ৫০০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত অর্থায়নের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এই পরিকল্পনার আরও গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—পুরোনো হয়ে যাওয়া জিপিইউগুলোর জন্য একটি দ্বিতীয় বাজার তৈরি করা।

অ্যাপোলো, ব্ল্যাকরক, ব্ল্যাকস্টোন, ব্রুকফিল্ড, গোল্ডম্যান স্যাকস ও কেকেআরের মতো বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এই উদ্যোগে অর্থ দেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছে। পরিকল্পনায় এআই ডেটা সেন্টার নির্মাণে ব্যবহৃত এনভিডিয়ার জিপিইউকে ঋণের জামানত হিসেবে ব্যবহার করা হবে।
এনভিডিয়া এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি নিজে নিতে রাজি হয়েছে। কোনো ডেটা সেন্টার ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে এবং জিপিইউ বিক্রি করে প্রত্যাশিত মূল্য না পাওয়া গেলে, এনভিডিয়া সেই মূল্যঘাটতির সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত পূরণ করবে।
এতে বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি কিছুটা কমবে এবং পুরোনো জিপিইউও আর্থিক সম্পদ হিসেবে মূল্য ধরে রাখতে পারবে।
তবে এনভিডিয়ার জন্য এর মধ্যে বড় ঝুঁকিও রয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতিকে আর্থিক বাজারে ‘ভুল দিকের ঝুঁকি’ বলা হয়। অর্থাৎ এআই চিপের চাহিদা কমে গেলে একই সময়ে এনভিডিয়ার আয়ও কমতে পারে এবং পুরোনো চিপের মূল্য রক্ষায় কোম্পানির দায় আরও বেড়ে যেতে পারে।
এ কারণে অনেকেই এনভিডিয়ার পরিকল্পনাকে লুসেন্ট টেকনোলজিসের সঙ্গে তুলনা করছেন। ডটকম যুগে লুসেন্ট নিজেদের সরঞ্জাম কেনার জন্য গ্রাহকদের অর্থায়ন করেছিল। পরে প্রযুক্তি বাজারে ধস নামলে প্রতিষ্ঠানটিও বড় সমস্যায় পড়ে। তবে এনভিডিয়ার পরিকল্পনায় মূলধনের বড় অংশ আসছে স্বাধীন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে, তাই পরিস্থিতি পুরোপুরি একই নয়।
এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াংয়ের লক্ষ্য শুধু নতুন ডেটা সেন্টার বানানো নয়। তিনি এমন একটি বাজার তৈরি করতে চান যেখানে পুরোনো এনভিডিয়া জিপিইউ অন্য প্রতিষ্ঠান, ক্লাউড সেবা বা নতুন গ্রাহকের কাছে আবার ব্যবহার করা যাবে।
ধারণাটি হলো, এআই সার্ভারকে সাধারণ কম্পিউটারের মতো দ্রুত মূল্য হারানো যন্ত্র হিসেবে না দেখে দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। কোনো একটি গ্রাহকের এআই চাহিদা কমে গেলেও একই সার্ভার অন্য গ্রাহক বা অন্য ক্লাউড অপারেটর ব্যবহার করতে পারবে।
এতে পুরোনো জিপিইউয়ের জন্য একটি বড় পুনর্ব্যবহারযোগ্য বাজার তৈরি হতে পারে। স্টার্টআপ, বড় প্রতিষ্ঠান এবং গবেষকেরাও ভবিষ্যতে নতুন ও অত্যাধুনিক চিপের পাশাপাশি কম দামের পুরোনো এনভিডিয়া হার্ডওয়্যার ব্যবহার করার সুযোগ পাবেন।

তবে পুরো পরিকল্পনাটি নির্ভর করছে এআই অবকাঠামোর চাহিদা দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী থাকার ওপর। যদি প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ ব্যবহারকারীরা এআই ব্যবহার কমিয়ে দেয়, কিংবা নতুন প্রযুক্তি বর্তমান এআই হার্ডওয়্যারকে দ্রুত অপ্রয়োজনীয় করে ফেলে, তাহলে এনভিডিয়ার ওপর আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে।
তবু পরিকল্পনাটি সফল হলে এনভিডিয়া শুধু নতুন জিপিইউ বিক্রি করেই নয়, পুরোনো চিপগুলোর জন্যও একটি সক্রিয় বাজার তৈরি করে এআই অবকাঠামোর চাহিদা দীর্ঘদিন ধরে রাখার সুযোগ পাবে।
