মোএনগেজের বাজি : বিপণনের ভবিষ্যৎ হবে কোটি কোটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এজেন্ট
মোএনগেজের বাজি: বিপণনের ভবিষ্যৎ হবে কোটি কোটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এজেন্ট
ভারতের গ্রাহক সম্পৃক্ততা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান মোএনগেজ মার্কিন স্টার্টআপ অ্যাম্পে-কে নগদ অর্থের বিনিময়ে অধিগ্রহণ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির বিশ্বাস, ভবিষ্যতের বিপণন ব্যবস্থায় প্রতিটি গ্রাহকের জন্য আলাদা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এজেন্ট কাজ করবে এবং সেখানেই বাজারের বড় পরিবর্তন আসবে।

চুক্তির আর্থিক মূল্য প্রকাশ করা না হলেও বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, অধিগ্রহণের পরিমাণ কয়েক কোটি মার্কিন ডলারের সমান।
প্রতিটি গ্রাহকের জন্য আলাদা এজেন্ট
২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত অ্যাম্পে এমন একটি প্রযুক্তি তৈরি করেছে যেখানে প্রতিটি গ্রাহকের জন্য পৃথক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এজেন্ট কাজ করে। এই এজেন্ট গ্রাহকের আচরণ বিশ্লেষণ করে ব্যক্তিগতকৃত বার্তা পাঠাতে পারে।
প্রচলিত বিপণন পদ্ধতিতে গ্রাহকদের বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করে প্রচারণা চালানো হয়। কিন্তু অ্যাম্পের প্রযুক্তি প্রতিটি গ্রাহককে আলাদাভাবে মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে অ্যাম্পের ৩০টিরও বেশি গ্রাহক রয়েছে। গত এক বছরে প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক পুনরাবৃত্ত আয় ১৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
সেলসফোর্স ও অ্যাডোবির সঙ্গে প্রতিযোগিতা
মোএনগেজের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী রবিতেজা দোড্ডা বলেছেন, এই অধিগ্রহণের মাধ্যমে তারা সেলসফোর্স মার্কেটিং ক্লাউড এবং অ্যাডোবি এক্সপেরিয়েন্স ক্লাউড ব্যবহারকারী বড় গ্রাহকদের নিজেদের প্ল্যাটফর্মে আনতে আরও শক্তিশালী অবস্থানে যাবে।
তার মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সেলসফোর্স ছেড়ে আসা কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বহু-মিলিয়ন ডলারের বার্ষিক চুক্তি করেছে মোএনগেজ।
বিপণনে বাড়ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার
বিশ্বজুড়ে সফটওয়্যার কোম্পানিগুলো এখন কেবল কনটেন্ট তৈরি বা কর্মীদের সহায়তার জন্য নয়, বরং স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্যও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করছে।
বিপণন খাতে এর অর্থ হলো—
- কোন গ্রাহককে লক্ষ্য করা হবে,
- কী বার্তা পাঠানো হবে,
- কখন পাঠানো হবে,
এসব সিদ্ধান্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাই নিতে পারবে।
বড় ব্র্যান্ডের আস্থা
অ্যাম্পের প্রযুক্তি বর্তমানে সুইগি, গ্র্যাব এবং ট্যাক্সফিক্স-এর মতো প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত হচ্ছে। এদের অনেকেই মোএনগেজের গ্রাহকও।
এই অধিগ্রহণের ফলে অ্যাম্পের প্রায় ২০ জন কর্মী মোএনগেজে যোগ দেবে। ফলে কোম্পানিটির মোট কর্মীসংখ্যা প্রায় ৮২০ জনে পৌঁছাবে।

বৈশ্বিক উপস্থিতি
মোএনগেজ বর্তমানে ৭৫টি দেশে ১,৩৫০টিরও বেশি ভোক্তা-কেন্দ্রিক ব্র্যান্ডকে সেবা দিচ্ছে। এর গ্রাহকদের মধ্যে খুচরা বিক্রয়, আর্থিক সেবা, গণমাধ্যম এবং খাদ্য সরবরাহ খাতের প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
অন্যদিকে, ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত অ্যাম্পে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ সংগ্রহ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগকারীদের মধ্যে রয়েছে পিক এক্সভি পার্টনার্স, জেড-৪৭ এবং থিওরি ভেঞ্চারস।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক বছরে বিপণন খাতে বড় পরিবর্তন আসবে। প্রচলিত প্রচারণা পদ্ধতির পরিবর্তে প্রতিটি গ্রাহকের জন্য পৃথক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এজেন্ট ব্যবহার করা হলে কোম্পানিগুলো আরও নির্ভুলভাবে গ্রাহকের চাহিদা বুঝতে পারবে এবং বিক্রি বাড়াতে সক্ষম হবে। মোএনগেজের এই অধিগ্রহণ সেই পরিবর্তনের দিকেই একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।






