দ্রুত ডেলিভারি বাজারে ফ্লিপকার্টের বড় অগ্রগতি, অ্যামাজনের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতা
দ্রুত ডেলিভারি বাজারে ফ্লিপকার্টের বড় অগ্রগতি, অ্যামাজনের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতা। ভারতের দ্রুত ডেলিভারি বা ‘কুইক কমার্স’ বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করছে ওয়ালমার্ট-সমর্থিত ফ্লিপকার্ট। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের ফ্লিপকার্ট মিনিটস সেবা চালুর দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে দেশজুড়ে ১,০০০টি মাইক্রো-ফুলফিলমেন্ট সেন্টার গড়ে তুলেছে। দ্রুত পণ্য সরবরাহের জন্য তৈরি এসব ছোট গুদাম থেকেই কয়েক মিনিটের মধ্যে গ্রাহকদের কাছে পণ্য পৌঁছে দেওয়া হয়।

ফ্লিপকার্ট জানিয়েছে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এই সংখ্যা বাড়িয়ে ১,৫০০টিতে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে ভারতের দ্রুত বর্ধনশীল কুইক কমার্স বাজারে কোম্পানিটির অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বর্তমানে এই খাতে সবচেয়ে বড় নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে ব্লিঙ্কইট, যার মাইক্রো-ফুলফিলমেন্ট সেন্টারের সংখ্যা ২,২৪৩। এছাড়া জেপ্টো, সুইগি ইনস্টামার্ট, ফ্লিপকার্ট এবং অ্যামাজন নতুন অবকাঠামো নির্মাণ ও গ্রাহক বাড়ানোর জন্য ব্যাপক বিনিয়োগ করছে।
বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল কুইক কমার্স বাজারগুলোর একটি হয়ে উঠেছে ভারত। শুরুতে মুদিপণ্য সরবরাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন কয়েক মিনিটে ইলেকট্রনিকস, সৌন্দর্যসামগ্রী, পোশাক ও গৃহস্থালি পণ্যও সরবরাহ করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, অ্যামাজনও তাদের অ্যামাজন নাউ সেবার সম্প্রসারণে জোর দিয়েছে। বর্তমানে ১৫টির বেশি শহরে সেবাটি চালু রয়েছে এবং ৫০০টিরও বেশি মাইক্রো-ফুলফিলমেন্ট সেন্টার পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। ভবিষ্যতে ১০০টি শহরে সেবা সম্প্রসারণ এবং ১,০০০টির বেশি সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
ফ্লিপকার্ট মিনিটসের প্রধান কুনাল গুপ্তা জানিয়েছেন, প্ল্যাটফর্মটিতে গত এক বছরে অর্ডারের পরিমাণ প্রায় ৪০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে গ্রাহক ধরে রাখার হারও ২০ শতাংশ বেড়েছে।
তিনি বলেন, “যা একসময় শুধু দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের মাধ্যম ছিল, তা এখন লাখো ভারতীয়ের নতুন কেনাকাটার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। গ্রাহকরা শুধু বেশি অর্ডার করছেন না, বরং ভিন্ন ধরনের পণ্যও কিনছেন।”
ফ্লিপকার্ট জানিয়েছে, বর্তমানে তাদের সেবা ১৩০টিরও বেশি শহর এবং ৮,০০০-এর বেশি পিনকোড এলাকায় পৌঁছে গেছে। বড় শহরের পাশাপাশি ছোট শহরগুলো থেকেও দ্রুত প্রবৃদ্ধি আসছে। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, এসব ছোট শহরে গত বছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি ৪,০০০ শতাংশেরও বেশি।

বিশ্লেষকদের মতে, ভারত এখন ই-কমার্সের পরবর্তী বড় পরীক্ষাগার হয়ে উঠেছে। কুইক কমার্সকে শুধু মুদিপণ্য সরবরাহ নয়, বরং পূর্ণাঙ্গ অনলাইন কেনাকাটার প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করতে প্রতিযোগিতায় নেমেছে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো।
ফ্লিপকার্টের পরিকল্পনা অনুযায়ী, তারা প্রতি মাসে ৭৫ থেকে ১০০টি নতুন মাইক্রো-ফুলফিলমেন্ট সেন্টার চালু করবে। কুনাল গুপ্তা বলেন, “১,০০০ স্টোরে পৌঁছানোর পরও আমাদের সম্প্রসারণ থামবে না। আমরা এই খাতে পুরো শক্তি নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছি।”






