শেয়ারবাজারে যাচ্ছে মানবসদৃশ রোবট নির্মাতা অ্যাজিলিটি রোবোটিক্স
শেয়ারবাজারে যাচ্ছে মানবসদৃশ রোবট নির্মাতা অ্যাজিলিটি রোবোটিক্স। মানবসদৃশ রোবট নির্মাতা মার্কিন প্রতিষ্ঠান অ্যাজিলিটি রোবোটিক্স শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বিশেষ উদ্দেশ্যে গঠিত একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত হওয়ার মাধ্যমে বাজারে আসছে কোম্পানিটি। এই চুক্তিতে অ্যাজিলিটি রোবোটিক্সের মূল্যায়ন করা হয়েছে প্রায় ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং এর মাধ্যমে ৬২০ মিলিয়নেরও বেশি ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে, যা মানবসদৃশ রোবট খাতে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় মূলধন সংগ্রহের উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পেগি জনসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, অদূর ভবিষ্যতে মানুষের ঘরে ঘরে এমন রোবট দেখা যাবে—এমন প্রত্যাশা করা ঠিক হবে না।

২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত অ্যাজিলিটি রোবোটিক্স মূলত গুদাম ও কারখানায় ভারী পণ্য বহনের জন্য দুই পায়ে চলতে সক্ষম মানবসদৃশ রোবট তৈরি করে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান পণ্য ডিজিট প্রায় ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি লম্বা এবং ওজন প্রায় ৭৩ কেজি। মানুষের কর্মপরিবেশে সহজে চলাচল করে ভারী বাক্স ও মালামাল বহনের জন্য এটি বিশেষভাবে নকশা করা হয়েছে। এর পায়ের বিশেষ গঠন এবং হাতের নকশা গুদামজাত পণ্য দক্ষতার সঙ্গে ধরতে ও স্থানান্তর করতে সাহায্য করে।
প্রধান নির্বাহী পেগি জনসন বলেন, বর্তমানে কোম্পানির কাছে ৩০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি দীর্ঘমেয়াদি কাজের চুক্তি রয়েছে। এর আওতায় প্রায় এক হাজার রোবট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মাসিক ভাড়াভিত্তিক সেবা দেবে। অ্যামাজন, জিএক্সও লজিস্টিকস, টয়োটা মোটর ম্যানুফ্যাকচারিং কানাডা, শেফলার এবং মার্কাডো লিব্রে ইতোমধ্যেই কোম্পানিটির গ্রাহক।
তিনি জানান, অ্যাজিলিটি রোবোটিক্স বিভিন্ন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভাষা মডেল ব্যবহার করলেও কোম্পানির সবচেয়ে বড় শক্তি সফটওয়্যার নয়, বরং বাস্তব পরিবেশে রোবটের চলাফেরা, ভারসাম্য রক্ষা এবং নিরাপদে কাজ করার প্রযুক্তি। দীর্ঘ এক দশকের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে সংগৃহীত তথ্যভান্ডারই তাদের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা তৈরি করেছে। সম্প্রতি একটি পরীক্ষায় রোবটকে শুধু “এই জায়গাটি পরিষ্কার করো” নির্দেশ দেওয়া হলে সেটি বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা আলাদা করে সঠিক স্থানে ফেলতে সক্ষম হয়।

পেগি জনসন বলেন, শিল্পকারখানা বা গুদামের তুলনায় মানুষের বাড়ির পরিবেশ অনেক বেশি জটিল। সেখানে শিশু, পোষা প্রাণী, অতিথি এবং প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত পরিবেশের কারণে নিরাপদে কাজ করা রোবটের জন্য অনেক কঠিন। তাই ঘরের দৈনন্দিন কাজ করবে এমন মানবসদৃশ রোবট বাজারে আসতে এখনও অন্তত ১০ বছর বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
তার ভাষায়, বর্তমানে তাদের প্রধান লক্ষ্য ঘরোয়া ব্যবহার নয়, বরং গুদাম ও উৎপাদন খাতের শ্রমিক সংকট মোকাবিলা করা। যুক্তরাষ্ট্রে এই ধরনের শারীরিক পরিশ্রমের কাজে ১০ লক্ষেরও বেশি পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি রয়েছে। সেই ঘাটতি পূরণে মানবসদৃশ রোবট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেই কোম্পানির বিশ্বাস।






