ইউক্রেনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চালকবিহীন স্থলযান
ইউক্রেনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চালকবিহীন স্থলযান। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি একশোরও বেশি চালকবিহীন স্থলযান ব্যবহার করা হয়েছে। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফোর্টেরা জানিয়েছে, গত নয় মাস ধরে এসব যান ইউক্রেনের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ এলাকায় মোতায়েন রয়েছে। তাদের দাবি, যুদ্ধক্ষেত্রে কোনো মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের তৈরি চালকবিহীন স্থলযানের এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় মোতায়েন।

এই যানগুলো মূলত গোলাবারুদ, রসদ ও অন্যান্য ভারী সরঞ্জাম বহনের পাশাপাশি আহত সেনাদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে ব্যবহৃত হচ্ছে। ইউক্রেনীয় সেনাদের মতে, তাদের নিজস্ব চালকবিহীন স্থলযানের তুলনায় ফোর্টেরার যানগুলো অনেক বেশি ভার বহন করতে পারে এবং দীর্ঘ সময় কাজ করতে সক্ষম। ইতোমধ্যে এগুলো এক হাজারেরও বেশি অভিযানে অংশ নিয়ে কয়েকশ টন মালামাল পরিবহন এবং অর্ধশতাধিক আহত সেনাকে উদ্ধার করেছে।
যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের সময় প্রতিষ্ঠানটি বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করেছে। কাদাময় পথ, বৈদ্যুতিক বিঘ্ন, দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ এবং সফটওয়্যার উন্নয়নের মতো নানা বিষয়ে এসব অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের প্রযুক্তি উন্নয়নে কাজে লাগবে বলে জানিয়েছে তারা।
তবে এখনো এসব যান পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুদ্ধ পরিচালনা করতে সক্ষম নয়। শত্রুর উপস্থিতি শনাক্ত করে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো জটিল কাজের ক্ষেত্রে এখনো মানুষের নিয়ন্ত্রণের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এজন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিকে আরও উন্নত করার কাজ চলছে।

ফোর্টেরার কর্মকর্তারা মনে করছেন, ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে চালকবিহীন স্থলযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তবে ইউক্রেনীয় সেনাদের দাবি, এসব যান আরও কম খরচে তৈরি করা গেলে যুদ্ধক্ষেত্রে অনেক বড় পরিসরে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।






