নেটফ্লিক্সকে নতুন করে বদলাতে বাধ্য করছে শর্টস ভিডিওর যুগ
নেটফ্লিক্সকে নতুন করে বদলাতে বাধ্য করছে শর্টস ভিডিওর যুগ। একসময় একসঙ্গে পুরো মৌসুম প্রকাশ করে ধারাবাহিক দেখার অভ্যাস জনপ্রিয় করেছিল নেটফ্লিক্স। কিন্তু সেই সফল কৌশলই এখন প্রতিষ্ঠানটির জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অনেক দর্শক জনপ্রিয় ধারাবাহিকের দ্বিতীয় মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। এর পেছনে দীর্ঘ বিরতি, মাঝপথে ধারাবাহিক বাতিল হয়ে যাওয়া এবং দর্শকের পরিবর্তিত অভ্যাসকে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী এখন আর প্রচলিত টেলিভিশন নয়। বরং শর্টস ভিডিওভিত্তিক বিভিন্ন মাধ্যম মানুষের অবসর সময় দখল করে নিচ্ছে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই শেষ করা যায় এমন বিনোদনের প্রতি দর্শকদের আগ্রহ দ্রুত বাড়ছে। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নিয়ে দীর্ঘ ধারাবাহিক দেখার প্রবণতা আগের তুলনায় কমছে।
এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে নেটফ্লিক্স ইতোমধ্যে শর্টস ভিডিওর মতো একটি নতুন প্রদর্শন ব্যবস্থা চালু করেছে। তবে সেটি এখনো মূলত দর্শকদের নতুন অনুষ্ঠান খুঁজে দিতে ব্যবহৃত হচ্ছে, নিজেই আলাদা বিনোদনের মাধ্যম হয়ে উঠতে পারেনি। এদিকে ক্ষুদ্র পর্বের ধারাবাহিকভিত্তিক নতুন নতুন মাধ্যম জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এবং সেগুলোর আয়ও দ্রুত বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দর্শকের আগ্রহ ধরে রাখতে নেটফ্লিক্সকে দীর্ঘমেয়াদি ধারাবাহিকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এক মৌসুমেই সম্পূর্ণ গল্প শেষ হয় এমন অনুষ্ঠান বাড়াতে হবে। পাশাপাশি ছোট ছোট পর্বে অনুষ্ঠান প্রকাশ কিংবা নির্দিষ্ট সময় অন্তর নতুন পর্ব প্রকাশের কৌশলও কার্যকর হতে পারে। ইতোমধ্যে কিছু বাস্তবধর্মী অনুষ্ঠানে এই পদ্ধতি ভালো ফল দিয়েছে।

সব মিলিয়ে প্রযুক্তি ও দর্শকের অভ্যাস বদলে যাওয়ায় নেটফ্লিক্স আবারও নিজেদের বিনোদন পরিবেশনের ধরন নতুন করে সাজানোর চাপে পড়েছে। এখন তাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু পুরোনো টেলিভিশনের বিকল্প হওয়া নয়, বরং শর্টস ভিডিওর যুগে দর্শকের মনোযোগ ধরে রাখা।






