ইলেকট্রিক এয়ার ট্যাক্সিতে বদলে যাচ্ছে প্রতিযোগিতার চিত্র। ইলেকট্রিক উড্ডয়ন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন শুধু ভবিষ্যতের এয়ার ট্যাক্সি বাজারের জন্য অপেক্ষা করছে না। নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্যেই তারা নতুন ব্যবসা ও আয়ের পথ খুঁজছে। সম্প্রতি আর্চার এভিয়েশন, জবি এভিয়েশন এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কয়েকটি বড় পদক্ষেপে এ খাতের পরিবর্তন স্পষ্ট হয়েছে।

আর্চার এভিয়েশন এবার সাবেক প্রতিদ্বন্দ্বী উইস্ক অ্যারোকে অধিগ্রহণ করেছে। বোয়িং উইস্ক ও এর সঙ্গে থাকা স্কাইগ্রিড এবং ড্রোন নির্মাতা ইনসিটুকে আর্চারের কাছে বিক্রি করেছে। বিনিময়ে বোয়িং আর্চারের ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ মালিকানা পেয়েছে।
উইস্ক ও আর্চারের সম্পর্ক অবশ্য সব সময় বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল না। ২০২১ সালে উইস্ক আর্চারের বিরুদ্ধে গোপন তথ্য ও মেধাস্বত্ব চুরির অভিযোগে মামলা করেছিল। দুই বছর পর সেই বিরোধ মীমাংসা হয় এবং প্রতিষ্ঠান দুটির মধ্যে সহযোগিতাও শুরু হয়।
অন্যদিকে জবি এভিয়েশন প্রতিরক্ষা খাতে প্রবেশ আরও জোরদার করছে। প্রতিষ্ঠানটি ৫০ কোটি ডলারে রেজোন্যান্ট সায়েন্সেস অধিগ্রহণ করেছে। রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ও সেন্সর প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানটি এখন জবি ডিফেন্স নামে জবির আলাদা প্রতিরক্ষা ব্যবসার অংশ হবে।
এয়ার ট্যাক্সির পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় পরিবহন খাতেও বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে। উবার তার স্বয়ংক্রিয় ডেলিভারি রোবট কোম্পানি সার্ভ রোবোটিক্সে থাকা পুরো অংশীদারিত্ব বিক্রি করে দিয়েছে। তবে দুই প্রতিষ্ঠান এখনো ব্যবসায়িকভাবে যুক্ত এবং সার্ভের রোবট উবার ইটসের মাধ্যমে ডেলিভারি করছে।
এদিকে ভারতের বৈদ্যুতিক চলাচল প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইউলু ৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার বিনিয়োগ পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে অরোরা ইনোভেশন ও কোডিয়াক এআই ক্যালিফোর্নিয়ার সড়কে স্বয়ংক্রিয় ট্রাক পরীক্ষার অনুমতিও পেয়েছে।
স্বয়ংক্রিয় রোবোট্যাক্সির ক্ষেত্রেও অগ্রগতি অব্যাহত রয়েছে। অ্যাভরাইড উবার অ্যাপে ডালাসে ১ লাখের বেশি স্বয়ংক্রিয় যাত্রা সম্পন্ন করেছে। তবে এসব যাত্রায় এখনো নিরাপত্তার জন্য একজন মানব চালক গাড়িতে থাকছেন।

পনি ডট এআই ও উবার ইউরোপের চারটি শহরে ২ হাজার রোবোট্যাক্সি চালুর পরিকল্পনাও করছে। একই সময়ে ওয়েমো ক্যালিফোর্নিয়ায় বাণিজ্যিক রোবোট্যাক্সি সেবা আরও বিস্তৃত করার অনুমতি পেয়েছে।
সব মিলিয়ে, বৈদ্যুতিক এয়ার ট্যাক্সি ও স্বয়ংক্রিয় যানবাহনের বাজারে প্রতিযোগিতা এখন শুধু প্রযুক্তি তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিরক্ষা, স্বয়ংক্রিয় ডেলিভারি, রোবোট্যাক্সি ও অন্যান্য খাতে প্রবেশ করে নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের আগেই আয়ের উৎস তৈরি করার চেষ্টা করছে।
