১৫০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগে একশ কোটি ডলার মূল্যায়ন পেল ‘ইভেন রিয়েলিটিজ’
১৫০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগে একশ কোটি ডলার মূল্যায়ন পেল ‘ইভেন রিয়েলিটিজ’। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসমৃদ্ধ স্মার্ট চশমার বাজারে প্রতিযোগিতা দ্রুত বাড়ছে। এই প্রতিযোগিতার মধ্যেই চীনের শেনঝেনভিত্তিক স্টার্টআপ ইভেন রিয়েলিটিজ নতুন বিনিয়োগ হিসেবে ১৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সংগ্রহ করেছে। চীনের প্রযুক্তি জায়ান্ট মেইতুয়ান ও টেনসেন্টের নেতৃত্বে হওয়া এই বিনিয়োগের ফলে মাত্র তিন বছরের পুরোনো প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য একশ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।

২০২৩ সালে অ্যাপলের সাবেক কয়েকজন প্রকৌশলী প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন। প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী উইল ওয়াং আগে অ্যাপল ওয়াচ ও আইফোন প্রকল্পে কাজ করেছেন। যেখানে অনেক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান ক্যামেরা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর স্মার্ট চশমা তৈরিতে জোর দিচ্ছে, সেখানে ইভেন রিয়েলিটিজ সম্পূর্ণ ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির চশমায় কোনো ক্যামেরা নেই; বরং ব্যবহারকারীর দৃষ্টিসীমায় সরাসরি প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদর্শনের জন্য বিশেষ প্রদর্শন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। তাদের দাবি, এতে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা অনেক বেশি সুরক্ষিত থাকে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রথম পণ্য ইভেন জি–১ ২০২৪ সালে বাজারে আসে এবং সে সময় এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে হালকা স্মার্ট চশমাগুলোর একটি বলে দাবি করা হয়। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সাড়া পেয়ে তারা ১০ হাজারেরও বেশি ইউনিট বিক্রি করতে সক্ষম হয়। বর্তমানে বাজারে রয়েছে তাদের নতুন সংস্করণ ইভেন জি–২, যা একটি আঙটির মাধ্যমে স্পর্শভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং ব্যবহারকারীর সামনে ভেসে ওঠা পর্দায় তথ্য প্রদর্শন করে।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, গোপনীয়তা রক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চশমাটি তৈরি করা হয়েছে। অনুবাদ বা কথোপকথন সহায়তার মতো সুবিধাগুলোতে শব্দ সংরক্ষণ না করে তাৎক্ষণিকভাবে লেখায় রূপান্তর করা হয়। পাশাপাশি ব্যবহারকারীর তথ্য সাংকেতিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হয় এবং ইউরোপের কঠোর তথ্য সুরক্ষা নীতিমালা অনুসরণ করে অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে।
ইভেন রিয়েলিটিজের সবচেয়ে জনপ্রিয় সুবিধাগুলোর একটি হলো কথোপকথন সহায়ক ব্যবস্থা, যা আলোচনার সময় কঠিন শব্দ বা বিষয় ব্যাখ্যা করে, সম্ভাব্য উত্তর সাজেস্ট করে এবং পুরো আলোচনার সারাংশ পরে ব্যবহারকারীর স্মার্টফোনে পাঠিয়ে দেয়।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী জানান, বর্তমানে তাদের অর্ধেকেরও বেশি গ্রাহক যুক্তরাষ্ট্রে। এছাড়া জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যেও তাদের বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। যদিও পণ্যগুলো চীনে তৈরি হয়, এখনো দেশটির বাজারে সেগুলো বিক্রি শুরু হয়নি।
বর্তমানে এই স্মার্ট চশমার মূল দাম কর ছাড়া ৫৯৯ মার্কিন ডলার। প্রয়োজন অনুযায়ী পাওয়ার লেন্স ও নিয়ন্ত্রণের আঙটি যুক্ত করলে একজন ক্রেতার মোট ব্যয় প্রায় এক হাজার ডলারে পৌঁছে যায়। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, তাদের অধিকাংশ গ্রাহক ৩০ থেকে ৫০ বছর বয়সী পেশাজীবী পুরুষ এবং ব্যবহারকারীদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।






