প্রযুক্তি সংবাদ

এআই প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে গুগলের মামলা

Rate this post
এআই প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে গুগলের মামলা। চীনা সাইবার চক্রের বিরুদ্ধে আদালতে গেল গুগল, লাখো মানুষের তথ্য ও কোটি ডলার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ।
এআই প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে গুগলের মামলা
এআই প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে গুগলের মামলা

প্রযুক্তি ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে পরিচালিত একটি বৃহৎ সাইবার প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে মামলা করেছে গুগল। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, চীনা সাইবার অপরাধী নেটওয়ার্ক ‘আউটসাইডার এন্টারপ্রাইজ’ গুগলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে লাখো মানুষের পাসওয়ার্ড, ক্রেডিট কার্ডের তথ্য ও আর্থিক তথ্য চুরি করেছে। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম টেকক্রাঞ্চ এ তথ্য জানিয়েছে।

গুগলের দাবি, এই চক্রটি শত শত হাজার ভুক্তভোগীকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলেছে এবং ক্ষতির পরিমাণ কয়েক মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। মাত্র দুই সপ্তাহে তারা ৯ হাজার ভুয়া ওয়েবসাইট, ১০ লাখ প্রতারণামূলক ডোমেইন এবং অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের কাছে ২৫ লাখ ভুয়া বার্তা পাঠিয়েছে। গত মে মাসে মাত্র দুই সপ্তাহে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা ৫৫ হাজার স্প্যাম বার্তার অভিযোগ করেছেন, যা প্রতি মিনিটে দুইটির বেশি অভিযোগের সমান।

গুগল জানিয়েছে, এই প্রতারণা ঠেকাতে প্রতিষ্ঠানটি নিজেও এআইনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যবহার করছে। সন্দেহজনক ফোনকল ও বার্তা শনাক্ত করে ব্যবহারকারীদের সতর্ক করার মাধ্যমে প্রতি মাসে ১ হাজার কোটি বা ১০ বিলিয়নের বেশি প্রতারণামূলক বার্তা আটকানো হচ্ছে। এ কাজে গুগল যুক্তরাষ্ট্রের টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান এটিঅ্যান্ডটি, টি-মোবাইল ও ভেরাইজনের সঙ্গে সমন্বয় করছে।

প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, তারা এফবিআইয়ের সঙ্গেও যৌথভাবে কাজ করছে। এফবিআইয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, গুগল ও সাইবার নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাক লোটাস ল্যাবস-এর সহযোগিতায় সাইবার অপরাধীদের ব্যবহৃত কয়েকটি ডোমেইন, শপিফাইভিত্তিক স্টোরফ্রন্ট এবং ফিশিং অবকাঠামো জব্দ করা হয়েছে।

এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জুলাই থেকে আউটসাইডার এন্টারপ্রাইজের ফিশিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অন্তত ৩৮ লাখ ৭০ হাজার চুরি হওয়া ক্রেডিট কার্ডের তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে আনুমানিক ১ দশমিক ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গুগলের আদালতে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আউটসাইডার নামে একটি সফটওয়্যার সেবার মাধ্যমে যে কেউ সহজে ফিশিং অভিযান চালাতে পারে। এই সফটওয়্যারের সাপ্তাহিক মূল্য ৮৮ ডলার এবং মাসিক মূল্য ২০০ ডলার। এআই প্ল্যাটফর্ম, এমনকি গুগলের নিজস্ব জেমিনি ব্যবহার করেও কয়েক মিনিটের মধ্যে ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়।

গুগলের ভাষ্য অনুযায়ী, এই প্ল্যাটফর্মে ২৯০টিরও বেশি প্রস্তুত টেমপ্লেট রয়েছে, যা টেলিযোগাযোগ কোম্পানি, ব্যাংক, সরকারি সংস্থা ও খুচরা বিক্রেতাদের ওয়েবসাইটের হুবহু অনুকরণ তৈরি করতে পারে। ব্যবহারকারীরা এসব ভুয়া ওয়েবসাইটে তথ্য প্রবেশ করলেই তা তাৎক্ষণিকভাবে অপরাধীদের কাছে পৌঁছে যায়।

গুগলের অভিযোগ, আউটসাইডার এন্টারপ্রাইজের সদস্যরা টেলিগ্রাম চ্যানেলের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে, প্রশিক্ষণ দেয় এবং নতুন প্রতারণার কৌশল নিয়ে আলোচনা করে। তাদের মধ্যে কেউ সফটওয়্যার তৈরি করে, কেউ সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকা সংগ্রহ করে, কেউ গণহারে ভুয়া বার্তা পাঠানোর অবকাঠামো পরিচালনা করে এবং অন্যরা চুরি করা তথ্য থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার কাজ করে।

গুগল জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ১৪ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র পাঁচ মাসে এই চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১৫ লাখ ৯০ হাজারের বেশি ইউআরএল শনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়া বিশ্বের ৯৫টি দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ইস্যু করা অন্তত ৩৬ হাজার পেমেন্ট কার্ডের তথ্য চুরি করা হয়েছে।

এআই প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে গুগলের মামলা
এআই প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে গুগলের মামলা

মামলায় গুগল আউটসাইডার এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে গুগলের পরিচয় ও ব্র্যান্ডের অপব্যবহার, কপিরাইট লঙ্ঘন, প্রতারণা, সংঘবদ্ধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং মিথ্যা বিজ্ঞাপনের অভিযোগ এনেছে। প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতিপূরণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে আদালতের নির্দেশ চেয়েছে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ

এআই প্রযুক্তি যেমন মানুষের কাজ সহজ করছে, তেমনি সাইবার অপরাধীরাও একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আরও দ্রুত ও বড় পরিসরে প্রতারণা চালাতে পারছে। এই ঘটনা দেখিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন শুধু উদ্ভাবনের হাতিয়ার নয়, বরং সাইবার অপরাধের নতুন অস্ত্রেও পরিণত হচ্ছে। ফলে এআইনির্ভর প্রতারণা ঠেকাতে প্রযুক্তি কোম্পানি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং ব্যবহারকারীদের আরও সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন বাড়ছে।

Related Articles

Back to top button