সাইবার হামলা ঠেকাতে কৃত্রিম শহর বানাল এফবিআই
সাইবার হামলা ঠেকাতে কৃত্রিম শহর বানাল এফবিআই।বাস্তব বিশ্বের সাইবার হামলার অনুকরণে ২২ হাজার বর্গফুটের প্রশিক্ষণ নগরী গড়েছে মার্কিন তদন্ত সংস্থাটি।

প্রযুক্তি ডেস্ক: সাইবার অপরাধ তদন্ত ও ডিজিটাল হামলা মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই একটি ছোট আকারের কৃত্রিম শহর নির্মাণ করেছে। আলাবামার হান্টসভিল ক্যাম্পাসে তৈরি ২২ হাজার বর্গফুটের এই নগরী বাস্তব বিশ্বের সাইবার হামলার অনুকরণে প্রশিক্ষণ ও তদন্ত পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম টেকক্রাঞ্চ এ তথ্য জানিয়েছে।
‘কাইনেটিক সাইবার রেঞ্জ’ নামে পরিচিত এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে চালু হয়। এখানে রয়েছে সম্পূর্ণ সাজানো বাড়ি, হোটেল, পেট্রোল স্টেশন, মুদি দোকান, আদালত, হাসপাতাল এবং বিদ্যুৎ কোম্পানির স্থাপনা। এমনকি বাস্তব শহরের মতো সড়ক ও ট্রাফিক সিগন্যালও তৈরি করা হয়েছে, যাতে তদন্তকারীরা বাস্তব পরিস্থিতির কাছাকাছি পরিবেশে প্রশিক্ষণ নিতে পারেন।
এফবিআই জানিয়েছে, চালুর পর থেকে এই কেন্দ্রটিতে ১ হাজার ৪০০-এর বেশি শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে এফবিআইয়ের সদস্য ছাড়াও অন্যান্য ফেডারেল ও স্থানীয় সংস্থার কর্মকর্তারা রয়েছেন। সংস্থাটির লক্ষ্য হলো শ্রেণিকক্ষের তাত্ত্বিক শিক্ষার বাইরে গিয়ে বাস্তবধর্মী সাইবার ঘটনার অভিজ্ঞতা প্রদান করা।
কৃত্রিম শহরটির প্রতিটি ভবন ও অবকাঠামো কার্যকর ডিভাইস এবং ডিজিটাল সিস্টেমের সঙ্গে সংযুক্ত। এগুলো বাস্তব কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা শহরের মতোই কাজ করে। তবে পুরো ব্যবস্থা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে পরিচালিত কোনো সিমুলেটেড সাইবার হামলা বাইরে ছড়িয়ে পড়তে না পারে।
এই প্রশিক্ষণ নগরীতে একটি ডেটা সেন্টারও রয়েছে, যেখানে ২০০টির বেশি ফিজিক্যাল সার্ভার স্থাপন করা হয়েছে। এর কিছু উইন্ডোজ এবং কিছু লিনাক্সভিত্তিক। বাস্তব সাইবার হামলা, তথ্য ফাঁস বা তল্লাশি পরোয়ানা কার্যকরের সময় তদন্তকারীরা যেসব করপোরেট প্রযুক্তি অবকাঠামোর মুখোমুখি হন, সেই পরিবেশের অভিজ্ঞতা দেওয়ার জন্যই এই ডেটা সেন্টার তৈরি করা হয়েছে।
এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই কেন্দ্রের মাধ্যমে র্যানসমওয়্যার হামলা এবং তার বাস্তব প্রভাবও অনুকরণ করা যায়। উদাহরণ হিসেবে হাসপাতালের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা অচল হয়ে গেলে কী ধরনের জরুরি সিদ্ধান্ত নিতে হয়, কীভাবে তদন্ত পরিচালনা করতে হয় এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হয়, সেসব বিষয়ও এখানে অনুশীলন করা হয়।
প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি ডিজিটাল ফরেনসিকস দক্ষতা বাড়ানোর কাজেও ব্যবহৃত হচ্ছে। আধুনিক এনক্রিপ্টেড ডিভাইস থেকে তথ্য উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যে কৌশল ব্যবহার করে, সেগুলোর অনুশীলনও এখানে করা হয়। যদিও এসব প্রযুক্তি বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে, কারণ অনেক ক্ষেত্রে ডিভাইস নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে না জানিয়ে সফটওয়্যারের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

এফবিআইয়ের ২০২৫ সালের ইন্টারনেট ক্রাইম রিপোর্ট অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে এক বছরের মধ্যে সাইবার অপরাধে ক্ষতির পরিমাণ রেকর্ড ২০ দশমিক ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেশি। একই প্রতিবেদনে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর জন্য র্যানসমওয়্যারকে সবচেয়ে বড় চলমান সাইবার হুমকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
বিশ্বজুড়ে সাইবার হামলা ও র্যানসমওয়্যারের ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে বাস্তব শহরের আদলে তৈরি এই প্রশিক্ষণ নগরী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জটিল সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় আরও দক্ষ করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে এটি দেখাচ্ছে, ভবিষ্যতের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কেবল সফটওয়্যার নয়, বাস্তবধর্মী অনুশীলন ও সিমুলেশনও কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।






