বিলিয়ন ডলারের সফটওয়্যার সাম্রাজ্য গড়া বেন্ডিং স্পুনস আসলে কী?
বিলিয়ন ডলারের সফটওয়্যার সাম্রাজ্য গড়া বেন্ডিং স্পুনস আসলে কী? ইতালির মিলানভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বেন্ডিং স্পুনস যুক্তরাষ্ট্রের নাসডাক শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর ব্যাপক আলোচনায় এসেছে। তালিকাভুক্তির পর প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য একসময় ২৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা তাদের আগের ব্যক্তিগত মূল্যায়নের দ্বিগুণেরও বেশি।

প্রতিষ্ঠানটি এওএল, ভিমিও, মিটআপ, ইভেন্টব্রাইট, উইট্রান্সফারসহ বহু পরিচিত ডিজিটাল সেবা কিনে নিজেদের অধীনে এনেছে। তবে তাদের কৌশল সাধারণ বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের মতো নয়। তারা কোনো প্রতিষ্ঠান কিনে বিক্রি করে দেয় না; বরং সেটিকে দীর্ঘমেয়াদে নিজেদের মালিকানায় রেখে আরও লাভজনক করার চেষ্টা করে।
এই লক্ষ্য পূরণে বেন্ডিং স্পুনস কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ায়, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনে, মূল্য বৃদ্ধি করে এবং অনেক ক্ষেত্রেই বড় পরিসরে কর্মী ছাঁটাই করে। এসব সিদ্ধান্তের কারণে প্রতিষ্ঠানটি একাধিকবার সমালোচনার মুখেও পড়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা মাত্তেও দানিয়েলি জানান, পরিবর্তনের পরও গ্রাহক ধরে রাখার হার উল্লেখযোগ্যভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। বর্তমানে তাদের বিভিন্ন সেবা মিলিয়ে প্রতি মাসে প্রায় ৫০ কোটি সক্রিয় ব্যবহারকারী এবং ৯০ লাখের বেশি অর্থপ্রদানকারী গ্রাহক রয়েছে।
ছোট উদ্যোগ থেকে প্রযুক্তি জায়ান্ট
২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বেন্ডিং স্পুনসের যাত্রা শুরু হয় ডেনমার্কের একটি ব্যর্থ উদ্যোগের অবশিষ্ট দল নিয়ে। প্রথমে তারা নিজস্ব মোবাইল অ্যাপ তৈরি করলেও পরে অন্য প্রতিষ্ঠানের সফটওয়্যার কিনে উন্নত করার কৌশল গ্রহণ করে। সেই কৌশলই এখন তাদের মূল ব্যবসা।

প্রতিষ্ঠান কিনে কী করে তারা?
কোনো প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণের পর বেন্ডিং স্পুনস সাধারণত—
- সফটওয়্যারের নকশা ও সুবিধা উন্নত করে।
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত করে নতুন সুবিধা আনে।
- আয়ের জন্য মূল্য নির্ধারণে পরিবর্তন আনে।
- পরিচালন ব্যয় কমাতে কর্মীসংখ্যা হ্রাস করে।
তাদের দাবি, এসব পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর ও লাভজনক করা সম্ভব হয়।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
২০২৫ সালে বেন্ডিং স্পুনস প্রায় ২,৫০০টি সম্ভাব্য অধিগ্রহণের সুযোগ বিশ্লেষণ করে, যার মধ্যে ছয়টি প্রতিষ্ঠান কিনেছে। ভবিষ্যতে আরও এক হাজারের বেশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের দিকে নজর রাখার কথা জানিয়েছে তারা।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী লুকা ফেরারির মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে কম জনবল দিয়েই আরও বেশি কাজ করা সম্ভব হবে। ফলে ভবিষ্যতে আরও বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণ এবং দ্রুত রূপান্তর করা তাদের জন্য সহজ হবে।






