কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভুলে আট হাজারের বেশি ব্যবহারকারীর হিসাব বন্ধ করল ডিসকর্ড
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভুলে আট হাজারের বেশি ব্যবহারকারীর হিসাব বন্ধ করল ডিসকর্ড। ডিসকর্ড স্বীকার করেছে, তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর বিষয়বস্তু যাচাই ব্যবস্থার একটি ত্রুটির কারণে গত দুই মাসে আট হাজারেরও বেশি ব্যবহারকারীর হিসাব ভুলভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। সাধারণ ছক, দাবার ছক, খেলার নকশা, এমনকি সাদা বা ধূসর স্বচ্ছ পটভূমির ছবিকেও ক্ষতিকর বিষয়বস্তু হিসেবে শনাক্ত করায় এই সমস্যা তৈরি হয়। গত সপ্তাহান্তেও আরও প্রায় দুই শতাধিক ব্যবহারকারী একই কারণে নিষিদ্ধ হন। পরে ত্রুটি শনাক্ত করে তা ঠিক করা হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত সব হিসাব ধাপে ধাপে পুনরুদ্ধার করা হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তাদের স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আপলোড করা ছবি পরিচিত ক্ষতিকর বিষয়বস্তুর তথ্যভান্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখে। কিন্তু ত্রুটির কারণে কিছু নিরীহ ছবিও ভুলভাবে ক্ষতিকর হিসেবে চিহ্নিত হয় এবং মানব পর্যালোচনার আগেই সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীদের হিসাব স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ডিসকর্ড বলেছে, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে তারা অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা যুক্ত করছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ব্যবহারকারী অভিযোগ করেন, শুধু বর্গাকৃতির ছকযুক্ত ছবি আপলোড করায় তাদের হিসাব বন্ধ হয়ে গেছে। কারও কারও ধারণা, অতীতে অনৈতিক বিষয়বস্তু আড়াল করতে এ ধরনের নকশা ব্যবহার হওয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন এসব ছবির প্রতি অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়ে পড়েছে। অনেকেই বলেছেন, কাজ, খেলাধুলার দল কিংবা দূরের বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ডিসকর্ডের ওপর নির্ভরশীল মানুষের জন্য এমন ভুল সিদ্ধান্ত বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে।

এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করে বিষয়বস্তু যাচাই করলে ভুল সিদ্ধান্তের ঝুঁকি থেকেই যায়। এর আগে একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল মেটার ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম, এমনকি টাম্বলারের বিরুদ্ধেও। ফলে স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় আরও স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করার দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।






