কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থানে চলতি বছরেই যুক্ত হলো প্রায় ৯০টি নতুন একশ কোটি ডলারমূল্যের স্টার্টআপ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থানে চলতি বছরেই যুক্ত হলো প্রায় ৯০টি নতুন একশ কোটি ডলারমূল্যের স্টার্টআপ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ঘিরে বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আগ্রহের ফলে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধেই বিশ্বজুড়ে প্রায় ৯০টি নতুন স্টার্টআপ একশ কোটি ডলার বা তার বেশি মূল্যায়ন অর্জন করেছে। বাজার বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন এই উচ্চমূল্য পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশিরভাগই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করলেও স্বাস্থ্যসেবা, সাইবার নিরাপত্তা, মহাকাশ প্রযুক্তি, রোবটিকস, আর্থিক প্রযুক্তি, জৈবপ্রযুক্তি এবং ক্রিপ্টোভিত্তিক বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানও তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, জুন মাসে কেবল একটি প্রতিষ্ঠান নতুন করে এই মর্যাদা অর্জন করলেও মে মাসে সবচেয়ে বেশি প্রতিষ্ঠান তালিকায় যুক্ত হয়েছে। মে মাসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কর্মপরিবেশ নির্মাতা মেইনফাঙ্ক, স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা পরীক্ষার প্রতিষ্ঠান এক্সবো, মহাকাশে তথ্যকেন্দ্র তৈরির উদ্যোগ স্টারক্লাউড, মহাকাশভিত্তিক বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিকল্পনার কাউবয় স্পেস, স্বাস্থ্যসেবা স্বয়ংক্রিয়করণ প্রতিষ্ঠান ফোরাস এবং আরও বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান একশ কোটি ডলারের বেশি মূল্যায়ন পেয়েছে।
এপ্রিল মাসে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল প্রযুক্তি উদ্যোক্তা জেফ বেজোস-এর সহপ্রতিষ্ঠিত প্রমিথিউস, যার মূল্যায়ন পৌঁছেছে প্রায় ৪১ বিলিয়ন ডলারে। একই মাসে আর্থিক বিশ্লেষণ, সফটওয়্যার উন্নয়ন, ওষুধ আবিষ্কার, ব্যবসায়িক স্বয়ংক্রিয়করণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেরও দ্রুত মূল্যায়ন বৃদ্ধি পেয়েছে।
মার্চে ক্যানসার চিকিৎসা গবেষণা, মহাকাশ প্রতিরক্ষা, চিপ শীতলীকরণ প্রযুক্তি, গাণিতিক গবেষণা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য নেটওয়ার্ক যন্ত্রপাতি এবং মানুষের সঙ্গে কথোপকথনে সক্ষম বুদ্ধিমান যন্ত্র তৈরির মতো বিভিন্ন খাতের একাধিক প্রতিষ্ঠান নতুন একশ কোটি ডলারের ক্লাবে প্রবেশ করে। ফেব্রুয়ারিতে মানবসদৃশ রোবট, স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণযন্ত্র স্বয়ংক্রিয়করণ, ক্লাউড অবকাঠামো, ব্যাটারি প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল্যায়ন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
বছরের শুরুতেই জানুয়ারিতে ভাষা প্রযুক্তি, মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্যসেবা, মহাকাশ শিল্প, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চিপ নকশা, কণ্ঠস্বরভিত্তিক প্রযুক্তি, শিল্পকারখানা ব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষা প্রযুক্তি খাতের বহু প্রতিষ্ঠান নতুন একশ কোটি ডলারের মর্যাদা লাভ করে। এ সময় গুগল থেকে গড়ে ওঠা একটি প্রতিষ্ঠান, মহাকাশ খাতের কয়েকটি উদ্যোগ এবং একাধিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠানও দ্রুত উচ্চমূল্যায়নে পৌঁছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের নতুন উচ্চমূল্য পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সবচেয়ে প্রভাবশালী খাত হলেও স্বাস্থ্যসেবা, মহাকাশ, প্রতিরক্ষা, আর্থিক প্রযুক্তি, শিল্প উৎপাদন, তথ্যনিরাপত্তা এবং ক্রিপ্টো প্রযুক্তিতেও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এতে স্পষ্ট হচ্ছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থানকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক উদ্যোগ বিনিয়োগের বাজারে নতুন এক প্রবৃদ্ধির ধারা তৈরি হয়েছে এবং উচ্চমূল্যের নতুন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।






