টেসলা দুর্ঘটনায় চালকই চাপেছিলেন পুরো অ্যাক্সিলারেটর। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে একটি টেসলা গাড়ি বাড়িতে ঢুকে এক বৃদ্ধার মৃত্যুর ঘটনায় নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে দেশটির জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ড। তদন্তে দেখা গেছে, দুর্ঘটনার মুহূর্তে চালক নিজেই অ্যাক্সিলারেটর শতভাগ চেপেছিলেন, ফলে টেসলার ‘ফুল সেলফ-ড্রাইভিং (সুপারভাইজড)’ ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে যায়।

তদন্তে উদ্ধার করা গাড়ির তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় টেসলাটি ঘণ্টায় ৭০ মাইলের বেশি গতিতে চলছিল। গত জুনে টেক্সাসের ক্যাটি শহরে একটি বাড়িতে গাড়িটি ঢুকে পড়লে ৭৬ বছর বয়সী মার্থা অ্যাভিলা নিহত হন।
ঘটনার পর নিহতের পরিবার ৪৪ বছর বয়সী চালক মাইকেল বাটলার এবং টেসলার বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগে মামলা করেছে। একই সঙ্গে বাটলারের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগও আনা হয়েছে।
জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ড জানিয়েছে, দুর্ঘটনার আগে আবাসিক এলাকায় ঘণ্টায় ৩০ মাইল গতিসীমার একটি সড়কে টেসলার স্বয়ংচালিত সহায়ক ব্যবস্থা চালু ছিল। তবে নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, গাড়িটি একটি মোড় অতিক্রম করার সময় হঠাৎ দ্রুতগতিতে ছুটে সড়ক ছেড়ে বাড়িতে আঘাত করে। দুর্ঘটনার সময় আবহাওয়া পরিষ্কার ছিল এবং সড়কও শুকনো ছিল।
দুর্ঘটনার পর টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক দাবি করেছিলেন, এত উচ্চগতির এই দুর্ঘটনার জন্য স্বয়ংচালিত ব্যবস্থা দায়ী নয়। সর্বশেষ তদন্তের তথ্যও সেই দাবির সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে।

তদন্তে আরও জানা গেছে, টেসলার এই সহায়ক ব্যবস্থা ব্যবহার করার সময় চালককে সবসময় সড়কের দিকে নজর রাখতে এবং প্রয়োজনে সঙ্গে সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ নিতে প্রস্তুত থাকতে হয়। তবে অভিযুক্ত চালক পুলিশকে জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার আগে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন। তদন্তে তার ইন্টারনেট অনুসন্ধানের ইতিহাসে টেসলার স্বয়ংচালিত ব্যবস্থাকে আরও আক্রমণাত্মক করার বিষয়ে একাধিক অনুসন্ধানের তথ্যও পাওয়া গেছে।
