অ্যামাজনের নতুন স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক স্পেসএক্সের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ? অ্যামাজন মোবাইল ফোনে সরাসরি স্যাটেলাইট সংযোগ দেওয়ার জন্য ৫,১০৫টি স্যাটেলাইট পরিচালনার অনুমতি চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশনে (এফসিসি) আবেদন করেছে। কোম্পানির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সাল থেকে এই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ শুরু হবে।

এই উদ্যোগটি আসে গ্লোবালস্টারের স্যাটেলাইট কার্যক্রম অধিগ্রহণের কয়েক মাস পর। বর্তমানে গ্লোবালস্টার অ্যাপলের আইফোনে জরুরি স্যাটেলাইট সংযোগ এবং বিভিন্ন ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) ডিভাইসে সেবা দেয়। নতুন পরিকল্পনায় গ্লোবালস্টারের রেডিও স্পেকট্রাম ব্যবহার করে অ্যামাজনের ব্রডব্যান্ড স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক ‘লিও’-এর সঙ্গে মোবাইল সংযোগ একীভূত করা হবে।
এর ফলে স্যাটেলাইটভিত্তিক মোবাইল সেবার বাজারে স্পেসএক্সের সঙ্গে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হতে পারে। স্পেসএক্স ইতোমধ্যেই এই খাতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে এবং নিজেদের মোবাইল স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে ইকোস্টারের স্পেকট্রাম কিনতে ২০০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে।
তবে এই বাজারের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়েছে। বর্তমানে অধিকাংশ স্যাটেলাইট-টু-মোবাইল সংযোগে ব্যান্ডউইথ সীমিত হওয়ায় মূলত জরুরি বার্তা বা টেক্সট মেসেজ পাঠানোই সম্ভব। টি-মোবাইলের তথ্য অনুযায়ী, তাদের নেটওয়ার্কে স্যাটেলাইট সেবার ব্যবহার এখনো অত্যন্ত কম এবং এটি মূলত দুর্গম এলাকায় সীমাবদ্ধ।
অন্যদিকে অ্যামাজনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো নিজস্ব রকেট না থাকা। কোম্পানিটি ব্লু অরিজিনের নিউ গ্লেন রকেটের ওপর নির্ভর করার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু মে মাসে উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্মে দুর্ঘটনার পর রকেটটির কার্যক্রম বিলম্বিত হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে অ্যামাজনকে এফসিসির কাছে সময় বাড়ানোর আবেদন করতে হয়েছে।

তবুও বিশ্লেষকদের মতে, বিপুল আর্থিক সক্ষমতা অ্যামাজনের বড় শক্তি। চলতি বছরের এপ্রিল শেষে কোম্পানির হাতে প্রায় ২৫৫ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ চলতি সম্পদ ছিল। ফলে দীর্ঘমেয়াদে স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কে বড় বিনিয়োগ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা তাদের রয়েছে, যা ভবিষ্যতে স্পেসএক্সের জন্য বড় প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি করতে পারে।
