এনভিডিয়াকে টক্কর দিতে এআই চিপ বিক্রির পরিকল্পনায় অ্যামাজন
এনভিডিয়াকে টক্কর দিতে এআই চিপ বিক্রির পরিকল্পনায় অ্যামাজন। নিজস্ব ট্রেনিয়াম চিপ অন্য কোম্পানির কাছে বিক্রির কথা ভাবছে অ্যামাজন; ডেটা সেন্টার বাজারে এনভিডিয়ার আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানাতে নতুন কৌশল।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চিপের বাজারে এনভিডিয়ার দীর্ঘদিনের আধিপত্যকে আরও সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাতে নতুন পদক্ষেপের কথা ভাবছে অ্যামাজন। প্রতিষ্ঠানটির ক্লাউড সেবা বিভাগ অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস বা এডব্লিউএস নিজেদের তৈরি ট্রেনিয়াম এআই চিপ অন্যান্য কোম্পানির কাছে বিক্রির বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গকে এ তথ্য জানিয়েছেন এডব্লিউএসের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক প্রধান পিটার ডি স্যান্টিস।
তবে সম্ভাব্য ক্রেতাদের নাম প্রকাশ করেননি পিটার ডি স্যান্টিস। পরে টেকক্রাঞ্চকে অ্যামাজন জানিয়েছে, চিপ বিক্রির আলোচনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। মূলত চলতি বছরের এপ্রিল মাসে অ্যামাজনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যান্ডি জ্যাসির বার্ষিক শেয়ারহোল্ডার চিঠির পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
শেয়ারহোল্ডারদের উদ্দেশে লেখা ওই চিঠিতে অ্যান্ডি জ্যাসি বলেন, অ্যামাজনের নিজস্বভাবে তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চিপের চাহিদা এত বেশি যে ভবিষ্যতে এগুলো তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রির বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। তার দাবি, চিপ ব্যবসাটি যদি আলাদা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হতো এবং এডব্লিউএস ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কাছে চিপ বিক্রি করত, তাহলে এর বার্ষিক আয়ের গতি প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারত।
৫০ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য ব্যবসা এনভিডিয়ার জন্য বড় ধাক্কা না হলেও এটি প্রযুক্তি শিল্পে নতুন প্রতিযোগিতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বর্তমানে এনভিডিয়ার বার্ষিক আয়ের গতি প্রায় ৩২৬ বিলিয়ন ডলার। তবে অ্যামাজনের সম্ভাব্য চিপ ব্যবসার আকার প্রায় ইন্টেলের বার্ষিক আয়ের সমান হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতদিন এডব্লিউএস বিভিন্ন কারণে নিজেদের তৈরি এআই চিপ সরাসরি বিক্রি থেকে বিরত ছিল। কারণ শুধু চিপ বিক্রি নয়, বরং ক্লাউডে এসব চিপ ব্যবহার করে গ্রাহকদের তথ্য সংরক্ষণ, নিরাপত্তা, নেটওয়ার্কিং ও পর্যবেক্ষণসহ নানা সেবা দিয়েও বিপুল আয় করে প্রতিষ্ঠানটি। ফলে চিপ নিজেদের অবকাঠামোর মধ্যে রাখলে আরও বেশি ব্যবসায়িক সুবিধা পাওয়া যায়।
আরেকটি বড় কারণ হলো চাহিদার তুলনায় চিপের উৎপাদন কম। এপ্রিলের ওই চিঠিতে অ্যান্ডি জ্যাসি জানিয়েছিলেন, বর্তমান ট্রেনিয়াম চিপের উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই বিক্রি হয়ে গেছে। এমনকি আগামী এক বছরেরও বেশি সময় পরে বাজারে আসার কথা থাকা ট্রেনিয়াম ফোর চিপের সক্ষমতার বড় অংশও ইতোমধ্যে সংরক্ষিত হয়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অ্যামাজন যদি তৃতীয় পক্ষের কাছে চিপ বিক্রি শুরু করে, তাহলে বর্তমান গ্রাহকদের দীর্ঘ অপেক্ষার মুখে পড়তে হতে পারে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে উৎপাদন অংশীদার প্রতিষ্ঠান টিএসএমসির মাধ্যমে অতিরিক্ত চিপ উৎপাদনের প্রয়োজন হবে। তবে টিএসএমসির উৎপাদন সক্ষমতার বড় অংশ বর্তমানে এনভিডিয়ার দখলে থাকায় অ্যামাজনের জন্য তা সহজ হবে না।

এডব্লিউএসের মুখপাত্র ডোরন অ্যারনসনও ভবিষ্যতে চিপ বিক্রির সম্ভাবনার কথা নিশ্চিত করেছেন। তার ভাষায়, অতীতে সরাসরি চিপ বিক্রির অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হলেও ভবিষ্যতে তৃতীয় পক্ষের কাছে চিপের র্যাক বিক্রি করা হতে পারে।
সম্প্রতি এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেনসেন হুয়াং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াকরণ চিপ বা সিপিইউ বিক্রিতে ২০০ বিলিয়ন ডলারের নতুন বাজারের সম্ভাবনার কথা বলেছেন। এর মাধ্যমে এনভিডিয়া ইন্টেল ও এএমডির বাজারেও প্রবেশের চেষ্টা করছে। অন্যদিকে অ্যান্ডি জ্যাসির পরিকল্পনা স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে অ্যামাজনও এখন এআই চিপের বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে চায়।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের কারণে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন চিপের চাহিদা বিশ্বজুড়ে বাড়ছে। এ অবস্থায় অ্যামাজন যদি নিজেদের ট্রেনিয়াম চিপ বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি শুরু করে, তাহলে এআই অবকাঠামো বাজারে এনভিডিয়ার দীর্ঘদিনের আধিপত্য প্রথমবারের মতো বড় ধরনের প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে পারে।






