ভারতের বৈদ্যুতিক বাইকের স্টার্টআপ ইউলু ৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার নতুন বিনিয়োগ পেয়েছে। ভারতে দ্রুত পণ্য সরবরাহের ব্যবসা দ্রুত বাড়তে থাকায় বৈদ্যুতিক যানবাহনের চাহিদাও বাড়ছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বেঙ্গালুরুভিত্তিক বৈদ্যুতিক চলাচল প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইউলু ৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার নতুন বিনিয়োগ সংগ্রহ করেছে।

ইউলু মূলত সাপ্তাহিক সাবস্ক্রিপশনের মাধ্যমে বৈদ্যুতিক দুই চাকার যান ডেলিভারি কর্মীদের ভাড়া দেয়। ফলে গিগ কর্মীদের নিজেদের বাইক কিনে ডেলিভারি কাজে নামতে হয় না। বর্তমানে ইউলুর বহরে প্রায় ৫০ হাজার যান রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এগুলো প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১৬ লাখ মাইল শূন্য-নির্গমন যাত্রা করে এবং প্রতিদিন ৭ লাখ ৫০ হাজারের বেশি ডেলিভারিতে ব্যবহৃত হয়।নতুন অর্থায়নের মাধ্যমে আগামী দুই বছরে ইউলু তাদের বহর ২ লাখ বৈদ্যুতিক বাইকে উন্নীত করতে চায়। পাশাপাশি নতুন ধরনের দ্রুতগতির বৈদ্যুতিক যানও বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিনিয়োগের বিস্তারিত
নতুন বিনিয়োগের ৬ কোটি ৩০ লাখ ডলার এসেছে ইকুইটি হিসেবে এবং ৩ কোটি ডলার এসেছে ঋণ হিসেবে। ইকুইটি বিনিয়োগে নেতৃত্ব দিয়েছে জিইএফ ক্যাপিটাল পার্টনার্স। এই চুক্তির পর ইউলুর মূল্যায়ন প্রায় ১৭ কোটি ডলার হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে ইউলুর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী অমিত গুপ্ত মূল্যায়নের বিষয়টি নিশ্চিত বা অস্বীকার করেননি।
আগের বিনিয়োগকারী বাজাজ অটো ও ম্যাগনা ইন্টারন্যাশনাল এবার নতুন অর্থায়নে অংশ নেয়নি। গুপ্ত জানান, সম্ভাব্য শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির আগে এটিই ইউলুর শেষ বড় ইকুইটি বিনিয়োগ হতে পারে। ভবিষ্যতে বহর সম্প্রসারণে ঋণ ও লিজিংয়ের ওপর বেশি নির্ভর করবে প্রতিষ্ঠানটি। ইউলু গত অর্থবছরে সুদ, কর ও অন্যান্য নির্দিষ্ট খরচ বাদ দেওয়ার আগে ইতিবাচক পরিচালন মুনাফা অর্জন করেছে। ২০২৩ থেকে ২০২৬ অর্থবছরের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির আয় সাত গুণ বেড়েছে বলেও গুপ্ত জানান।
করোনার সময় ব্যবসায় বড় পরিবর্তন
২০১৭ সালে শহুরে যাত্রীদের জন্য বাইক-শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইউলুর যাত্রা শুরু হয়। তবে করোনাভাইরাস মহামারির সময় খাবার ও মুদি পণ্য সরবরাহের চাহিদা দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি নতুন বড় বাজারের সন্ধান পায়। বর্তমানে ইউলুর প্রায় ৯৫ শতাংশ আয় আসে গিগ কর্মীদের কাছে সাপ্তাহিক সাবস্ক্রিপশনে বৈদ্যুতিক বাইক ভাড়া দেওয়া থেকে। বাকি আয় আসে বেঙ্গালুরুর স্টেশনভিত্তিক ভাড়া সেবা থেকে। ইউলু আগে সাধারণ গ্রাহকদের কাছে সরাসরি বাইক বিক্রির পরিকল্পনা করেছিল। তবে সেই পরিকল্পনা বাদ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
আসছে দ্রুতগতির ‘ইউলু এক্সপ্রেস’
পরবর্তী ধাপে ইউলু ‘ইউলু এক্সপ্রেস’ নামে পূর্ণ আকারের একটি দ্রুতগতির বৈদ্যুতিক স্কুটার আনছে। দীর্ঘ দূরত্বের ই-কমার্স ডেলিভারি, বাইক ট্যাক্সি ও দ্রুত পার্সেল পরিবহনের মতো কাজে এটি ব্যবহার করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইউলুর ভবিষ্যৎ ২ লাখ যানবাহনের বহরের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হবে এই নতুন মডেলের। বর্তমান কম গতির যানগুলো বাজাজ অটো তৈরি করলেও নতুন দ্রুতগতির স্কুটারটি অন্য একটি ভারতীয় নির্মাতা তৈরি করছে। তবে নির্মাতার নাম প্রকাশ করেনি ইউলু। বেঙ্গালুরুতে ইতোমধ্যে প্রায় ৫০০টি নতুন যান পরীক্ষামূলকভাবে চলছে। আরও তিনটি শহরেও এগুলোর পরীক্ষা চলছে।

২০ শহরে যাওয়ার লক্ষ্য
বর্তমানে ভারতের ১২টি শহরে ইউলুর কার্যক্রম রয়েছে। বেঙ্গালুরু, মুম্বাই, দিল্লি-এনসিআর ও হায়দরাবাদে প্রতিষ্ঠানটি নিজস্বভাবে কাজ করে। অন্য আটটি বাজারে ফ্র্যাঞ্চাইজির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হয়। আগামী এক বছরে প্রায় ২০টি শহরে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়েছে ইউলু। চেন্নাই ও পুনে রয়েছে তাদের গুরুত্বপূর্ণ সম্প্রসারণের তালিকায়। অ্যামাজন ও ওয়ালমার্টের মালিকানাধীন ফ্লিপকার্টসহ ভারতের প্রায় সব বড় দ্রুত-পণ্য সরবরাহ, খাবার সরবরাহ ও ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে ইউলুর অংশীদারত্ব রয়েছে। তবে এসব প্ল্যাটফর্ম ইউলুর সরাসরি গ্রাহক নয়। বাইক ভাড়া নেওয়া গিগ কর্মীরাই মূল গ্রাহক।
ইউলুর প্রধান নির্বাহী অমিত গুপ্ত প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকার তুলনা করেছেন ‘চলাচলের এডব্লিউএস’-এর সঙ্গে। অর্থাৎ, ইউলু নিজে ডেলিভারি না করে ডেলিভারি কর্মীদের জন্য প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক যান ও অবকাঠামো সরবরাহ করছে।
