অতিরিক্ত এআই ব্যবহার স্বাস্থ্যকর নয়, স্বীকার করলেন ইউটিউবার হ্যাঙ্ক গ্রিন। জনপ্রিয় ইউটিউবার, লেখক ও কৌতুকশিল্পী হ্যাঙ্ক গ্রিন স্বীকার করেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবটের ওপর তার নির্ভরতা অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে পৌঁছেছিল। একই সঙ্গে তিনি দর্শকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে ভিডিও তৈরির গতি কমিয়ে আরও সতর্কভাবে কাজ করবেন।

বিতর্কের শুরু হয় শিক্ষামূলক ইউটিউব চ্যানেল ‘কমপ্লেক্সলি’-তে প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে হঠাৎ করে “আপনার সমালোচনাকে আমি মূল্য দিচ্ছি” ধরনের একটি বাক্য ব্যবহৃত হওয়ায় অনেক দর্শকের সন্দেহ হয়, ভিডিওর চিত্রনাট্য তৈরিতে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করা হয়েছে এবং ভুলবশত চ্যাটবটের উত্তরও স্ক্রিপ্টে থেকে গেছে।
পরে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে হ্যাঙ্ক গ্রিন জানান, প্রচণ্ড চাপের মধ্যে ভিডিওটি তৈরি করতে গিয়ে তিনি গবেষণার জন্য চ্যাটজিপিটির সহায়তা নিয়েছিলেন। তবে বিতর্কিত বাক্যটি আসলে ওই পর্বের অতিথির মন্তব্যের জবাব ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
এরপর রেডিটে প্রকাশিত এক দীর্ঘ ক্ষমাপ্রার্থনায় গ্রিন লেখেন, এত মানুষকে হতাশ করায় তিনি ভীষণ বিব্রত। এজন্য তিনি আপাতত ভিডিও প্রকাশের সংখ্যা কমিয়ে দেবেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করেছেন মূলত গবেষণাপত্র ও তথ্যসূত্র খুঁজে বের করার জন্য। ভিডিওর বক্তব্য ও মতামত সবই তার নিজের। তবে তিনি স্বীকার করেন, অতিরিক্ত এআই ব্যবহারের কারণে তার নিজস্ব কাজের স্বাতন্ত্র্য কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—এমন সমালোচনা অযৌক্তিক নয়।
গ্রিন আরও বলেন, তিনি এআই প্রযুক্তির সম্পূর্ণ বিরোধী নন। তবে জলবায়ুর ওপর এর প্রভাব এবং বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক ক্ষমতা দ্রুত কেন্দ্রীভূত হওয়ার বিষয়টি তাকে উদ্বিগ্ন করে।
তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় ভয় হলো দর্শকদের আস্থা হারিয়ে ফেলা। তার মতে, মানুষকে নিশ্চিত হতে হবে যে তার কথাগুলো সত্যিই তার নিজের। কিন্তু দ্রুত কাজ করার চাপে তিনি নিজেই বুঝতে পারছিলেন না কোন পর্যায়ে তার নিজস্ব সৃজনশীল প্রক্রিয়া বদলে যাচ্ছে।

এই পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি আপাতত বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেলে কম ভিডিও প্রকাশ করবেন। ভবিষ্যতে তিনি আরও বেশি ব্যক্তিগত চিন্তা, সরাসরি ক্যামেরার সামনে বলা অসংলাপভিত্তিক ভিডিও এবং লেখাকেন্দ্রিক কনটেন্ট তৈরিতে মনোযোগ দিতে চান।
সবশেষে হ্যাঙ্ক গ্রিন স্বীকার করেন, বড় ভাষা মডেলের সঙ্গে ক্রমাগত কাজ করা এবং আরও বেশি উৎপাদনের নেশা থেকে যে ডোপামিন পাচ্ছিলেন, তা তার জন্য যেমন স্বাস্থ্যকর ছিল না, তেমনি পৃথিবীর জন্যও ভালো নয়। তার মতে, এই প্রবণতা তাকে অসতর্ক করে তুলেছিল এবং সাধারণ মানুষের অনুভূতি থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছিল।
