টেসলার দুর্ঘটনা নিয়ে নতুন বিতর্ক
টেসলার দুর্ঘটনা নিয়ে নতুন বিতর্ক। প্রাণঘাতী দুর্ঘটনায় অটোপাইলট নয়, চালকের ভুলের দাবি কোম্পানির।

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে একটি টেসলা গাড়ির প্রাণঘাতী দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও টেসলার স্বয়ংক্রিয় চালনা প্রযুক্তি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তবে এ ঘটনায় নিজেদের চালক-সহায়ক প্রযুক্তিকে দায়ী করার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি।
গত শুক্রবার রাতে টেক্সাসের কেটি শহরে একটি টেসলা মডেল ৩ সড়ক থেকে ছিটকে একটি বাড়িতে আঘাত হানে। এতে ৭৬ বছর বয়সী মার্থা অ্যাভিলা গুরুতর আহত হন এবং পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। গাড়িটির চালক মাইকেল বাটলার পুলিশকে জানান, দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি অটোপাইলট মোডে ছিল।
ঘটনার পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং টেসলার অটোপাইলট ও ফুল সেলফ-ড্রাইভিং (সুপারভাইজড) প্রযুক্তির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠে।
তবে সোমবার টেসলার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সফটওয়্যার বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং অটোপাইলট দলের প্রথম প্রকৌশলী অশোক এল্লুসওয়ামি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন। তার দাবি, দুর্ঘটনার সময় চালক নিজেই অ্যাক্সিলারেটর সম্পূর্ণ চেপে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাকে অকার্যকর করে দেন।
এল্লুসওয়ামির ভাষ্য অনুযায়ী, আবাসিক এলাকায় গাড়িটির গতি ঘণ্টায় ৭৩ মাইল পর্যন্ত পৌঁছেছিল এবং দুর্ঘটনার পরও অ্যাক্সিলারেটরে চাপ দেওয়া ছিল। তার দাবি, এ ঘটনায় গাড়ির প্রযুক্তির চেয়ে চালকের কর্মকাণ্ডই মূল ভূমিকা রেখেছে।
টেসলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইলন মাস্কও একই অবস্থান সমর্থন করেন। তিনি বলেন, ফুল সেলফ-ড্রাইভিং ব্যবস্থা সাধারণত আবাসিক এলাকায় ধীরগতিতে চলে, তাই এত উচ্চগতির দুর্ঘটনার সঙ্গে প্রযুক্তিটির আচরণ সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাসড়ক নিরাপত্তা প্রশাসন (এনএইচটিএসএ) ঘটনাটির বিশেষ তদন্ত শুরু করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টেসলার উন্নত চালক-সহায়ক প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট দুর্ঘটনা নিয়ে সংস্থাটি ৪০টিরও বেশি তদন্ত শুরু করেছে।
হ্যারিস কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, তদন্ত শেষে স্থানীয় ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে। এরপর এ ঘটনায় কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।






