প্রযুক্তি সংবাদ

ক্যানসার যুদ্ধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তা

Rate this post

ক্যানসার যুদ্ধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তা। সবচেয়ে সুস্থ মানুষটির ক্যানসার ধরা পড়ল, তারপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে তার চিকিৎসার সহযাত্রী হলো। নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে সবসময়ই অত্যন্ত সচেতন ছিলেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা কনো ক্রিস্টু। প্রতিদিন ঘুমের মান পর্যবেক্ষণ করতেন, শরীরের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করতেন, বছরে প্রায় একশটি স্বাস্থ্যসূচক পরীক্ষা করাতেন। দীর্ঘায়ু ও সুস্থ জীবন নিয়ে কাজ করা গবেষকদের পরামর্শ মেনে খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম এবং দৈনন্দিন জীবনযাপন সাজিয়েছিলেন।

ক্যানসার যুদ্ধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তা
ক্যানসার যুদ্ধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তা

মাত্র ৩৫ বছর বয়সে তার সব পরীক্ষার ফলই ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু একটি সাধারণ ব্যায়ামের পর হঠাৎ হাত ফুলে যাওয়ায় চিকিৎসকের কাছে গেলে জানা যায়, শিরায় রক্ত জমাট বেঁধেছে। অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতির সময় চিকিৎসকেরা আরও বড় একটি সমস্যা খুঁজে পান—বুকের হাড়ের পেছনে প্রায় ১১ সেন্টিমিটার আকারের একটি টিউমার।

পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়, তিনি দ্রুত ছড়িয়ে পড়া বিরল ধরনের নন-হজকিন লিম্ফোমায় আক্রান্ত। চিকিৎসকদের মতে, টিউমারটির বয়স ছিল মাত্র তিন মাস। আরও তিন সপ্তাহ দেরি হলে রোগটি চতুর্থ ধাপে পৌঁছে যেতে পারত।

এক চিকিৎসকের পরামর্শে থেমে থাকেননি

প্রথম ক্যানসার বিশেষজ্ঞ তুলনামূলক হালকা চিকিৎসাপদ্ধতির পরামর্শ দেন। কিন্তু চিকিৎসা শুরু হওয়ার আগের দিনই তিনি আরেকজন বিশেষজ্ঞের মতামত নেন।

দ্বিতীয় চিকিৎসক সম্পূর্ণ ভিন্ন মত দেন। তিনি জানান, অপেক্ষাকৃত কঠিন চিকিৎসাপদ্ধতিতে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৮৫ শতাংশ, যেখানে প্রথম পদ্ধতিতে তা প্রায় ৬০ শতাংশ।

এরপর ক্রিস্টু মোট ১২ জন বিশেষজ্ঞের মতামত সংগ্রহ করেন। তাঁদের মধ্যে ১১ জনই কঠিন চিকিৎসাপদ্ধতির পক্ষে মত দেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে তিনি সেই চিকিৎসাই গ্রহণ করেন।

চিকিৎসার পুরো সময় ছিল তথ্যনির্ভর প্রস্তুতি

ছয় মাসের চিকিৎসাজুড়ে তিনি নিজের শারীরিক পরিবর্তনের প্রতিটি তথ্য সংরক্ষণ করেন।

তিনি—

  • ঘুম ও শারীরিক অবস্থার তথ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করেন।
  • প্রতিদিন কণ্ঠ রেকর্ডের মাধ্যমে উপসর্গ লিখে রাখেন।
  • রক্ত পরীক্ষার ফল, বিভিন্ন স্ক্যানের প্রতিবেদন ও অন্যান্য স্বাস্থ্যতথ্য একত্র করেন।

এসব তথ্য তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সহকারী ক্লড-এ বিশ্লেষণের জন্য দেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এটি কখনোই চিকিৎসকের বিকল্প ছিল না; বরং চিকিৎসকদের কাছে আরও সঠিক প্রশ্ন করতে সহায়তা করেছে।

শেষ মুহূর্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

চিকিৎসা শেষ হওয়ার পর সর্বশেষ স্ক্যানে কিছু অস্পষ্ট ফল দেখা যায়। একজন চিকিৎসক আবারও অতিরিক্ত চিকিৎসার সম্ভাবনার কথা জানান।

কিন্তু ক্রিস্টু নিজে বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করেন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় সব স্ক্যান বিশ্লেষণ করেন।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, তার বয়সী রোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসা শেষে থাইমাস গ্রন্থি আবার সক্রিয় হয়ে উঠলে অনেক সময় স্ক্যানে ভুলভাবে ক্যানসারের উপস্থিতি মনে হতে পারে।

পরে আরও তিনজন বিশেষজ্ঞের মতামত নেওয়ার পর নিশ্চিত হয়, সেটি ক্যানসার নয়; বরং স্বাভাবিক শারীরিক পুনরুদ্ধারের অংশ। ফলে অতিরিক্ত বিকিরণ চিকিৎসার প্রয়োজন হয়নি।

ক্যানসার যুদ্ধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তা
ক্যানসার যুদ্ধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তা

চিকিৎসা সম্পর্কে বদলে গেছে দৃষ্টিভঙ্গি

ক্রিস্টু বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কেরাগন পরিচালনা করছেন। রোগী হিসেবে পুরো অভিজ্ঞতার পর তিনি মনে করেন, চিকিৎসকেরা অনেক সময় প্রশাসনিক কাজের চাপে রোগীর জন্য প্রয়োজনীয় সময় দিতে পারেন না।

তার মতে, ভবিষ্যতে চিকিৎসাক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চিকিৎসকের বিকল্প হবে না, তবে রোগীকে আরও সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে বড় ভূমিকা রাখবে।

Related Articles

Back to top button