ক্যাটাগরীবিহীন প্রযুক্তি সংবাদ

৩০ হাজার ডলারের ফ্যাথম ইভি দিয়ে কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে ফোর্ড?

৩০ হাজার ডলারের ফ্যাথম ইভি দিয়ে কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে ফোর্ড?
Rate this post

৩০ হাজার ডলারের ফ্যাথম ইভি দিয়ে কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে ফোর্ড? দীর্ঘদিন ধরেই নতুন কোনো ‘বড় সাফল্যের’ অপেক্ষায় রয়েছে মার্কিন গাড়ি নির্মাতা ফোর্ড। একসময় মডেল টি, টরাস, এফ-১৫০ ও এক্সপ্লোরারের মতো জনপ্রিয় মডেল দিয়ে বাজারে আধিপত্য গড়লেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিষ্ঠানটি তেমন কোনো আলোড়ন তুলতে পারেনি। এবার সেই অবস্থার পরিবর্তন আনতে ‘ফ্যাথম’ নামে নতুন বৈদ্যুতিক পিকআপ ট্রাকের ওপর বড় বাজি ধরেছে ফোর্ড।

৩০ হাজার ডলারের ফ্যাথম ইভি দিয়ে কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে ফোর্ড?
৩০ হাজার ডলারের ফ্যাথম ইভি দিয়ে কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে ফোর্ড?

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিম ফার্লি নতুন ফ্যাথম এবং ইউনিভার্সাল ইভি প্ল্যাটফর্মকে ফোর্ডের জন্য ‘মডেল টি মুহূর্ত’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বিশেষ করে বিশ্ববাজারে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠা চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করাই এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।

ফোর্ড জানিয়েছে, ফ্যাথমের প্রাথমিক সংস্করণের দাম হবে ২৯ হাজার ৯৪৫ ডলার। নতুন গাড়ির গড় মূল্য এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির গড় দামের তুলনায় এটি উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ফলে দাম বিবেচনায় এটি অনেক ক্রেতার জন্য আকর্ষণীয় হতে পারে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, শুধু কম দামই বাজারে সফল হওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না।

ফ্যাথম একটি কমপ্যাক্ট পিকআপ ট্রাক। এই ধরনের গাড়ির বাজার ধীরে ধীরে বাড়লেও এখনো এটি মূলধারার জনপ্রিয়তা পায়নি। ফোর্ডের মাভেরিক মডেলের বিক্রি ভালো হলেও তা প্রতিষ্ঠানটির অতীতের জনপ্রিয় টরাস মডেলের বিক্রির ধারেকাছেও পৌঁছায়নি।

নতুন ফ্যাথমে আগের তুলনায় বড় কেবিন এবং সামনের দিকে অতিরিক্ত সংরক্ষণস্থল বা ‘ফ্রাঙ্ক’ থাকছে, যা ব্যবহারকারীদের জন্য বাড়তি সুবিধা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

তবে বাজারে এখনো স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকল (এসইউভি)-এর চাহিদাই সবচেয়ে বেশি। পাশাপাশি অনেক পিকআপপ্রেমী ক্রেতা শক্তপোক্ত ও অফরোড উপযোগী নকশার গাড়ি পছন্দ করেন। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ফ্যাথম সেই ধরনের ‘রাগড’ ডিজাইনের অনুভূতি খুব বেশি দিতে পারছে না।

৩০ হাজার ডলারের ফ্যাথম ইভি দিয়ে কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে ফোর্ড?
৩০ হাজার ডলারের ফ্যাথম ইভি দিয়ে কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে ফোর্ড?

এর সঙ্গে রয়েছে বৈদ্যুতিক গাড়ি নিয়ে অনেক ক্রেতার অনীহা। এখনো উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ জ্বালানিচালিত গাড়িকেই বেশি নির্ভরযোগ্য মনে করেন। ফলে নতুন ক্রেতাদের ইভির দিকে আনা ফোর্ডের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

তবে ফোর্ডের হাতে এখনো কিছু সুযোগ রয়েছে। বিপণন কার্যক্রম জোরদার করা, ডিলারদের প্রশিক্ষণ এবং ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী অফরোড সংস্করণ বাজারে আনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করতে পারে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, ফ্যাথম হয়তো ফোর্ডের সবচেয়ে বড় সাফল্য হয়ে উঠবে না। বরং এটি নতুন বৈদ্যুতিক প্ল্যাটফর্ম ও উৎপাদন প্রক্রিয়া যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে এসইউভিসহ আরও জনপ্রিয় মডেল তৈরি করে বাজারে শক্ত অবস্থান গড়ার পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।