কোয়ান্টাম প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, তবুও শেয়ারবাজারে আইকিউএম
কোয়ান্টাম প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, তবুও শেয়ারবাজারে আইকিউএম। ফিনল্যান্ডভিত্তিক কোয়ান্টাম কম্পিউটার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আইকিউএম বিশেষ উদ্দেশ্যভিত্তিক একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নাসডাক শেয়ারবাজারে প্রায় ১৯০ কোটি ডলার মূল্যায়নে তালিকাভুক্ত হয়েছে। তবে শেয়ারবাজারে অভিষেকের দিন প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম প্রত্যাশিত উত্থান দেখাতে পারেনি; বরং দিনের বেশিরভাগ সময়ই প্রাথমিক মূল্যস্তরের নিচে লেনদেন হয়েছে। এর অন্যতম কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব সতর্কবার্তা, যেখানে বলা হয়েছে যে বৃহৎ পরিসরে কোয়ান্টাম কম্পিউটারের বাণিজ্যিক সফলতা হয়তো কখনোই বাস্তবায়িত নাও হতে পারে।

এই অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও আইকিউএম ইতোমধ্যে বিভিন্ন গবেষণা ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন গণনাকেন্দ্রে কোয়ান্টাম কম্পিউটার এবং মেঘভিত্তিক গণনাসেবা সরবরাহ করছে। বর্তমানে তাদের গ্রাহকদের মধ্যে রয়েছে ফিনল্যান্ডের গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং জার্মানির সুপারকম্পিউটিং কেন্দ্র। ২০২৪ সালে যেখানে প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহক ছিল মাত্র আটটি, সেখানে ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে বাইশটিতে। সাম্প্রতিক সময়ে বেসরকারি খাতের গ্রাহকও যুক্ত হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিলেও প্রযুক্তিটির ব্যাপক চাহিদা এখনো তৈরি হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোয়ান্টাম প্রযুক্তির প্রকৃত সম্ভাবনা তখনই উন্মোচিত হবে যখন এটি জটিল সমস্যার সমাধানে প্রচলিত কম্পিউটারের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে যাবে। কিন্তু সেই সময় কখন আসবে, তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না। তবুও বিভিন্ন সরকার ও বিনিয়োগকারী এই প্রযুক্তিতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকারও সাম্প্রতিক উদ্যোগের মাধ্যমে ২০২৮ সালের মধ্যে বিশ্বের প্রথম ত্রুটিসহনশীল বৈজ্ঞানিক কোয়ান্টাম কম্পিউটার নির্মাণের লক্ষ্য ঘোষণা করেছে, যার সুফল আইকিউএমও পেতে পারে।

২০১৮ সালে ফিনল্যান্ডে প্রতিষ্ঠিত আইকিউএমের অধিকাংশ গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম এখনো দেশটিতেই পরিচালিত হয়। পাশাপাশি জার্মানি ও অন্যান্য দেশেও প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বিস্তৃত হয়েছে। নতুন তালিকাভুক্তির মাধ্যমে প্রায় ২২ কোটি ৬০ লাখ ডলার নতুন মূলধন সংগ্রহ করবে প্রতিষ্ঠানটি, যা ভবিষ্যৎ গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক সম্প্রসারণে ব্যয় করা হবে। ইউরোপের প্রথম কোয়ান্টাম প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়াকে আইকিউএম একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছে, যদিও প্রতিষ্ঠানটি স্বীকার করছে যে কোয়ান্টাম প্রযুক্তির দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ এখনো অনেকটাই অনিশ্চিত।






