১৩ দেশে ছড়িয়েছে চীন-সংশ্লিষ্ট ‘লাইটস্পাই’ স্পাইওয়্যার, লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রও। চীনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘লাইটস্পাই’ নামে পরিচিত একটি স্পাইওয়্যার এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপসহ অন্তত ১৩টি দেশে সক্রিয়ভাবে হামলা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সাইবার নিরাপত্তা গবেষকেরা। নতুন সংস্করণে এই স্পাইওয়্যার বিপুল পরিমাণ তথ্য চুরি করার পাশাপাশি দূর থেকেই আক্রান্ত ডিভাইস অকার্যকর করে দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করেছে।

সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান আর্কটিক উলফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে প্রথম শনাক্ত হওয়া লাইটস্পাই আগে চীন-সমর্থিত হ্যাকারদের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তবে বর্তমানে এটি একটি বাণিজ্যিক স্পাইওয়্যার প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে, যা সরকার, সামরিক বাহিনী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে সেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
গবেষকদের দাবি, প্ল্যাটফর্মটিতে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে নিজস্ব ব্র্যান্ডিং, বিলিং ব্যবস্থা এবং প্রদর্শনী সংস্করণও রয়েছে। এটি দেখাচ্ছে যে, স্পাইওয়্যারের ব্যবহার এখন শুধু রাষ্ট্র-সমর্থিত হ্যাকারদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং বেসরকারি খাতেও দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে।
লাইটস্পাই একটি মডুলার স্পাইওয়্যার, যা স্মার্টফোন, অ্যাপলের বিভিন্ন ডিভাইস, লিনাক্স সার্ভার এবং উইন্ডোজ কম্পিউটারসহ বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রে আক্রমণ চালাতে পারে। নিরাপত্তা ত্রুটির সুযোগ নিয়ে এটি অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য, চ্যাট বার্তা, স্ক্রিন রেকর্ডিং এবং সংরক্ষিত পাসওয়ার্ডের মতো সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন সংস্করণে আক্রান্ত ডিভাইসের তথ্য দূর থেকে মুছে ফেলা বা সম্পূর্ণভাবে অকার্যকর করে দেওয়ার সুবিধাও যুক্ত হয়েছে, যা আগের তুলনায় এটিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলেছে।
গবেষকেরা আরও জানিয়েছেন, এবার প্রথমবারের মতো রাউটারেও লাইটস্পাইয়ের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। রাউটার আক্রান্ত হলে একই নেটওয়ার্কে থাকা অন্য সব ডিভাইসেও নজরদারি ও অনুপ্রবেশ সহজ হয়ে যায়। আক্রান্ত কিছু রাউটার ন্যাটোভুক্ত দেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলেও উল্লেখ করেছে আর্কটিক উলফ।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, লাইটস্পাই পরিচালনার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অন্তত ১১৭টি সার্ভারের একটি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হচ্ছে।
তদন্তে গবেষকেরা আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পেয়েছেন। তাদের দাবি, স্পাইওয়্যারটির একজন পরিচালনাকারী প্রশাসনিক প্যানেল ব্যবহার করে নিজের আসল নাম ও অফিসের ঠিকানা দিয়ে কেন্টাকি ফ্রাইড চিকেনে খাবারের অর্ডার করেছিলেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই সর্বশেষ কার্যক্রমের সঙ্গে এক চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সংযোগ খুঁজে পাওয়া গেছে।
