এআই যুগেও অ্যাপ স্টোরে নতুন উদ্ভাবনের জোয়ারনি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থানের কারণে অনেকেই মনে করছেন, ভবিষ্যতে আলাদা অ্যাপের প্রয়োজনীয়তা কমে যাবে। তবে বাস্তবতা ভিন্ন। অ্যাপ স্টোরে এখনো নিয়মিত আসছে নতুন, সৃজনশীল এবং উদ্ভাবনী অ্যাপ, যা প্রমাণ করছে ভালো সফটওয়্যারের চাহিদা এখনো কমেনি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এআই-ভিত্তিক কোডিংয়ের কারণে সফটওয়্যার তৈরি আগের চেয়ে অনেক সহজ হয়েছে। ফলে নতুন ডেভেলপাররাও দ্রুত অ্যাপ তৈরি করতে পারছেন। এর প্রভাবও স্পষ্ট। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে বিশ্বজুড়ে নতুন অ্যাপ প্রকাশের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে। শুধু অ্যাপলের অ্যাপ স্টোরেই এই প্রবৃদ্ধি ছিল ৮০ শতাংশ।
যদিও এআই দিয়ে তৈরি নিম্নমানের অ্যাপের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে, তবুও ব্যবহারকারীদের পছন্দের মাধ্যমে মানসম্পন্ন অ্যাপগুলোই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
প্রতিবেদনে কয়েকটি আকর্ষণীয় অ্যাপের কথাও তুলে ধরা হয়েছে—
• আলবো: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া লিংক, ভিডিও, রেসিপি, ভ্রমণ পরিকল্পনা বা অন্যান্য আইডিয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংরক্ষণ ও বিভাগভুক্ত করে রাখে। এমনকি মূল পোস্ট মুছে গেলেও তথ্য সংরক্ষিত থাকে।
• কুপ: স্থানীয় কৃষক, বেকার বা ছোট উৎপাদকদের কাছ থেকে সরাসরি পণ্য কেনাবেচার সুযোগ দেয়। এতে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি ছোট উদ্যোক্তারাও আয়ের সুযোগ পান।
• পিআই.এফওয়াইআই: অ্যালগরিদমের বদলে বন্ধু ও কমিউনিটির সুপারিশের মাধ্যমে নতুন কনটেন্ট, আগ্রহ ও মানুষের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করার একটি বিকল্প সামাজিক প্ল্যাটফর্ম।
• লেত্র: ডিজিটাল পেন-ফ্রেন্ড অ্যাপ, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের সঙ্গে চিঠি বিনিময়ের মাধ্যমে বন্ধুত্ব গড়ে তোলা যায়।
• সোফা টাইম: সিনেমা ও টিভি সিরিজের তালিকা তৈরি, নতুন রিলিজের নোটিফিকেশন এবং কী দেখবেন তা পরিকল্পনা করার জন্য একটি সহজ অ্যাপ।
• থিংসবুক: ব্যক্তিগত জার্নাল, ভ্রমণ, বই, খাবার, শখ বা লক্ষ্যগুলোকে সাজিয়ে রাখার একটি লেখাকেন্দ্রিক অ্যাপ, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিকল্প হিসেবে তৈরি করা হয়েছে।
• প্রেসড পেটালস: হাঁটার সময় দেখা ফুলের ছবি তুলে সেটিকে ভার্চুয়াল হারবারিয়াম বা উদ্ভিদ সংগ্রহে রূপান্তর করে। অ্যাপটি ফুলের নাম শনাক্ত করার পাশাপাশি স্থান ও সময়ও সংরক্ষণ করে।

• মুডস ফাস্টার: মাত্র দুটি ট্যাপের মাধ্যমে দৈনন্দিন মানসিক অবস্থা সংরক্ষণ করা যায় এবং তা অ্যাপল হেলথের সঙ্গে সমন্বয় করা যায়।
• অ্যাক্টিভেট ফিটনেস: নির্দিষ্ট পরিমাণ হাঁটা বা ব্যায়াম সম্পন্ন না করা পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপ করে, যাতে ব্যবহারকারীরা বেশি সক্রিয় জীবনযাপনে উৎসাহিত হন।
প্রতিবেদনটি দেখায়, এআই প্রযুক্তি অ্যাপ তৈরির পদ্ধতি বদলে দিলেও সৃজনশীল, ব্যবহারবান্ধব এবং সমস্যার কার্যকর সমাধান দিতে সক্ষম অ্যাপের চাহিদা এখনো আগের মতোই শক্তিশালী।
