এআই এজেন্টে বদলাচ্ছে ব্যবসায়িক সফটওয়্যার। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এজেন্টভিত্তিক প্রযুক্তির কারণে ব্যবসায়িক সফটওয়্যারে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। এতদিন এসব সফটওয়্যার মূলত প্রতিষ্ঠানের তথ্য, লেনদেন ও কাজের রেকর্ড সংরক্ষণ করত। এখন এআই এজেন্ট সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ এবং কাজ এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখতে শুরু করেছে।

প্রথম দিকে ব্যবসায় এআইয়ের ব্যবহার ছিল মূলত ‘কোপাইলট’ ধরনের। কর্মীরা কোনো প্রশ্ন করলে এআই সারসংক্ষেপ, পরামর্শ বা লেখা তৈরি করে দিত। কিন্তু এজেন্টভিত্তিক সফটওয়্যার শুধু পরামর্শ দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি ব্যবসার বর্তমান অবস্থা বুঝে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কাজেও সহায়তা করতে পারে।
উদাহরণ হিসেবে, কোনো গ্রাহকের অর্ডার আটকে গেলে এআই এজেন্ট অর্ডারটি কোন পর্যায়ে রয়েছে, কেন আটকে আছে এবং সেটি এগিয়ে নিতে কী করা দরকার—এসব তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারে। ফলে কর্মীদের প্রতিটি অর্ডার আলাদাভাবে পরীক্ষা করার প্রয়োজন কমে যায়।
হিসাব গ্রহণের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। কোনো গ্রাহকের বকেয়া বিল, আগের পেমেন্টের ইতিহাস, বিরোধ, ঋণসীমা ও ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে এআই এজেন্ট কোন গ্রাহকের ক্ষেত্রে আগে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার তা নির্ধারণে সাহায্য করতে পারে। এতে প্রতিষ্ঠানের অর্থপ্রবাহ উন্নত করার সুযোগ তৈরি হয়।
নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও এআই এজেন্ট ব্যবহার করা সম্ভব। একজন প্রার্থী নিয়োগের কোন পর্যায়ে রয়েছেন, সাক্ষাৎকার, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও পরবর্তী প্রক্রিয়ায় কী করা দরকার—এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে এজেন্ট নিয়োগ প্রক্রিয়াকে দ্রুত এগিয়ে নিতে পারে।
এই ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হলো কর্মীদের নিয়মিত ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজের চাপ কমানো। সফটওয়্যার যখন নীতিমালা ও নির্ধারিত সীমার মধ্যে এসব কাজ এগিয়ে নেবে, তখন কর্মীরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ, তদারকি এবং বেশি গুরুত্বপূর্ণ কাজে মনোযোগ দিতে পারবেন।

এভাবে ব্যবসায়িক সফটওয়্যার শুধু ‘কী ঘটেছে’ তা সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা থেকে ‘এখন কী করা উচিত’ তা নির্ধারণে সহায়তা করার ব্যবস্থায় পরিণত হচ্ছে।
তবে আর্থিক, আইনি, গ্রাহক বা বড় ধরনের ব্যবসায়িক ঝুঁকির সিদ্ধান্তে মানুষের তদারকি গুরুত্বপূর্ণ থাকবে। এআই এজেন্ট কাজ এগিয়ে নিতে পারলেও চূড়ান্ত জবাবদিহি মানুষের কাছেই থাকবে।
সব মিলিয়ে, এজেন্টভিত্তিক এআই ব্যবসায়িক সফটওয়্যারকে আরও সক্রিয় করে তুলছে। ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু তথ্য সংরক্ষণের জন্য নয়, বরং সেই তথ্য ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ এগিয়ে নেওয়ার জন্যও সফটওয়্যারের ওপর নির্ভর করতে পারে।
