কিন্ডল স্ক্রাইব কালারসফট মজার, তবে সবার জন্য নয়। অ্যামাজনের কিন্ডল স্ক্রাইব কালারসফট এমন ব্যবহারকারীদের জন্য তৈরি, যারা একই ডিভাইসে বই পড়া, নোট নেওয়া, দাগ দেওয়া ও হাতে লেখা নোট সংরক্ষণ করতে চান। তবে ৬৩০ ডলার থেকে শুরু হওয়া দাম এবং বড় আকারের কারণে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য এটি খুব প্রয়োজনীয় ডিভাইস নয়।

ডিভাইসটিতে রয়েছে ১১ ইঞ্চির রঙিন পর্দা। ওজন প্রায় ৪০০ গ্রাম। আকারে এটি কাগজের একটি সাধারণ পাতার কাছাকাছি। পাতলা হলেও বড় আকারের কারণে এক হাতে ধরে দীর্ঘ সময় ব্যবহার করা কিছুটা অস্বস্তিকর। ডেস্কে রেখে বা হাঁটুর ওপর ভর দিয়ে ব্যবহার করাই বেশি আরামদায়ক।
বড় পর্দার কারণে নোট লেখা, ছবি আঁকা, চার্ট তৈরি এবং পিডিএফ বা অন্যান্য নথি পড়া সহজ হয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, গবেষক ও নিয়মিত নোট নেওয়া ব্যবহারকারীরা এর সুবিধা বেশি পাবেন।
রঙিন পর্দাটি বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ আলাদা রঙে চিহ্নিত করার জন্য বেশ কার্যকর। তবে রঙগুলো সাধারণ ট্যাবলেটের মতো উজ্জ্বল নয়; বরং হাইলাইটারের নরম রঙের মতো দেখায়। ফলে কমিকস বা বেশি রঙনির্ভর ছবি দেখার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা ততটা ভালো নয়।
ডিভাইসের সঙ্গে পাওয়া কিন্ডল স্ক্রাইব পেনটি চুম্বকের মাধ্যমে পাশে লাগানো যায়। কলমটি হাতে আরামদায়ক এবং এর বিভিন্ন কাজ নিজের মতো করে নির্ধারণ করা যায়। লেখার সময় মুছে ফেলার সুবিধাটিও দ্রুত কাজ করে।
ব্যাটারি ব্যাকআপও বেশ ভালো। দুই মাস ব্যবহারের মধ্যে মাত্র দুইবার চার্জ দিতে হয়েছে। তবে বই পড়ার তুলনায় লেখালেখি করলে বেশি ব্যাটারি খরচ হয়।

কিন্ডল স্ক্রাইব কালারসফটের সবচেয়ে বড় সমস্যা এর দাম। সাধারণ কিন্ডল ব্যবহারকারীর জন্য ৬৩০ ডলার খরচ করা কঠিন। পুরোনো কিন্ডল বদলানোর উদ্দেশ্যে কিনতে চাইলে তুলনামূলক সস্তা কিন্ডল পেপারহোয়াইট, যার দাম ১৫৯.৯৯ ডলার থেকে শুরু, বেশি যুক্তিসংগত হতে পারে।
সব মিলিয়ে শিক্ষার্থী, গবেষক ও নিয়মিত জার্নাল লেখেন এমন ব্যবহারকারীদের জন্য কিন্ডল স্ক্রাইব কালারসফট আকর্ষণীয়। কিন্তু সাধারণ পাঠকের জন্য এর বাড়তি সুবিধাগুলো এত বেশি নয় যে এত বেশি দামকে সহজে যৌক্তিক করা যায়।
