কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার স্বয়ংক্রিয় সহকারী প্রত্যাশামতো এগোচ্ছে না- স্বীকার করেছেন জাকারবার্গ। মেটা-এর প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ স্বীকার করেছেন যে প্রতিষ্ঠানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় সহকারী প্রযুক্তির উন্নয়ন তাদের প্রত্যাশার তুলনায় ধীরগতিতে এগোচ্ছে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক অভ্যন্তরীণ বৈঠকে তিনি বলেন, এই প্রযুক্তির অগ্রগতি “যেভাবে দ্রুত হওয়ার কথা ছিল, সেভাবে হচ্ছে না”। যদিও মেটা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিপুল বিনিয়োগ করেছে, তবুও এখন পর্যন্ত সেই বিনিয়োগের কাঙ্ক্ষিত ফল পুরোপুরি পাওয়া যায়নি।

চলতি বছরের শুরুতে মেটা প্রায় আট হাজার কর্মীকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়, যা প্রতিষ্ঠানের মোট কর্মীর প্রায় দশ শতাংশ। একই সময়ে আরও সাত হাজার কর্মীকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সংক্রান্ত বিভিন্ন দলে যুক্ত করা হয়। জাকারবার্গ জানান, দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তি বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতেই এই কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি স্বীকার করেন, পুরো প্রক্রিয়াটি যতটা সুশৃঙ্খল হওয়ার কথা ছিল, বাস্তবে তা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকেন্দ্রিক কর্মপদ্ধতি থেকে যে সুফল পাওয়ার আশা করা হয়েছিল, তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। তবে আগামী তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সংক্রান্ত বিনিয়োগের ইতিবাচক ফল দৃশ্যমান হবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।

বর্তমানে মেটা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান। চলতি বছরে এই খাতের অবকাঠামো নির্মাণে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করতে পারে বলে জানা গেছে। জাকারবার্গের এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে মানুষের কাজ দ্রুত প্রতিস্থাপন করা এখনো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ধারণার মতো সহজ হয়ে ওঠেনি।
