প্রযুক্তি সংবাদ

রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার সুযোগে এশিয়ার নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উদ্যোগগুলোর উত্থান

Rate this post

রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার সুযোগে এশিয়ার নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উদ্যোগগুলোর উত্থান

যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার কারণে অ্যানথ্রোপিকের সর্বাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল বিশ্বের অধিকাংশ দেশের জন্য এখনও অপ্রাপ্য। এই সুযোগে চীন ও জাপানের নতুন প্রযুক্তি উদ্যোগগুলো নিজেদের বিকল্প মডেল উন্মোচন করেছে, যেগুলোকে তারা একই মানের সক্ষমতাসম্পন্ন বলে দাবি করছে।

রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার সুযোগে এশিয়ার নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উদ্যোগগুলোর উত্থান
রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার সুযোগে এশিয়ার নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উদ্যোগগুলোর উত্থান

চীনের সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ৩৬০ সম্প্রতি তুলুংফেং নামে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবস্থা উন্মোচন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এটি অ্যানথ্রোপিকের শক্তিশালী নিরাপত্তাভিত্তিক মডেলের সঙ্গে সমানতালে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম।

একই সপ্তাহে জাপানভিত্তিক প্রযুক্তি উদ্যোগ সাকানা উন্মোচন করেছে ফুগু নামে নতুন একটি মডেল। জাপানি ভাষায় ফুগু এক ধরনের মাছের নাম। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এটি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেলগুলোর সমপর্যায়ের সক্ষমতা অর্জন করেছে। পাশাপাশি এটি বিভিন্ন সেবার সঙ্গে সমন্বয় করে একাধিক মডেল পরিচালনা করতেও সক্ষম।

নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই বাজারে নতুন প্রতিযোগিতা

দুই সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্র সরকার অ্যানথ্রোপিকের উন্নত মডেল বিদেশে সরবরাহের ওপর কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ করে। ফলে বহু আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান বিকল্প সমাধানের খোঁজ শুরু করে।

সাকানার এক মুখপাত্র জানান, তাদের নতুন মডেল প্রকাশের পরিকল্পনা অনেক আগেই নেওয়া হয়েছিল। তবে সময়ের কারণে এটি অতিরিক্ত গুরুত্ব পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রচারে বলছে, তাদের প্রযুক্তি ব্যবহারে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণজনিত ঝুঁকি নেই।

জাপানের কৌশল

সাকানা মূলত জাপানের সরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়িক সংস্থাগুলোর জন্য এই মডেল তৈরি করেছে, যাতে তারা বিদেশি প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না থাকে।

প্রতিষ্ঠানটির মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি এখনও গুরুত্বপূর্ণ। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি দেখিয়েছে, যেকোনো সময় উন্নত প্রযুক্তির প্রবেশাধিকার বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই স্থানীয় বিকল্প গড়ে তোলা জরুরি।

প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীও বলেছেন, ভবিষ্যতের বড় অগ্রগতি শুধু আরও বড় মডেল তৈরিতে নয়, বরং বিভিন্ন মডেলকে একসঙ্গে কার্যকরভাবে পরিচালনার মধ্যেই নিহিত।

চীনের অবস্থান

চীনের ৩৬০ শুধু একটি নয়, দুটি নতুন নিরাপত্তাভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থা উন্মোচন করেছে।

  • তুলুংফেং সফটওয়্যারের নিরাপত্তা দুর্বলতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করতে পারে।
  • ইথিয়ানঝেন সাইবার আক্রমণ প্রতিরোধ এবং নিরাপত্তা ঘটনার দ্রুত মোকাবিলার জন্য তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা বলেন, নিরাপত্তা দুর্বলতা শনাক্ত করতে সক্ষম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন একটি কৌশলগত জাতীয় সম্পদে পরিণত হয়েছে। তাঁর মতে, এমন প্রযুক্তির প্রবেশাধিকার সীমিত হলে বৈশ্বিক ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।

রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার সুযোগে এশিয়ার নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উদ্যোগগুলোর উত্থান
রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার সুযোগে এশিয়ার নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উদ্যোগগুলোর উত্থান

এশিয়ার জন্য নতুন সুযোগ

রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার ফলে তৈরি হওয়া শূন্যস্থান পূরণে এশিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত এগিয়ে আসছে। বিশেষ করে স্থানীয় ভাষা, সংস্কৃতি ও আঞ্চলিক চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষিত মডেলগুলো এশিয়ার বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো আবারও বৈশ্বিক বাজারে পূর্ণ প্রবেশাধিকার পেলেও, এই সময়ে গড়ে ওঠা স্থানীয় বিকল্পগুলো সহজে বাজার ছেড়ে দেবে না।

Related Articles

Back to top button