প্রযুক্তি সংবাদ

ব্যয় কমাতে এআই দল আলাদা করল স্ন্যাপ

5/5 - (1 vote)
ব্যয় কমাতে আলাদা কোম্পানি গড়ছে স্ন্যাপ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ভিডিও দল থেকে জন্ম নিচ্ছে ‘ডটমো’ । অভ্যন্তরীণ ব্যয় নিয়ন্ত্রণের কৌশল হিসেবে নতুন প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করা হচ্ছে জেনারেটিভ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিডিও দল; গেম ও ইন্টারঅ্যাকটিভ বিনোদনের জন্য তৈরি হবে নতুন প্রযুক্তি ।
ব্যয় কমাতে এআই দল আলাদা করল স্ন্যাপ
ব্যয় কমাতে এআই দল আলাদা করল স্ন্যাপ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম স্ন্যাপচ্যাটের মূল প্রতিষ্ঠান স্ন্যাপ তাদের অভ্যন্তরীণ জেনারেটিভ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ভিডিও দলকে আলাদা করে নতুন একটি কোম্পানি গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। নতুন কোম্পানিটির নাম রাখা হয়েছে ‘ডটমো’। প্রতিষ্ঠানটি মূলত এমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল তৈরি করবে, যা ব্যবহার করে ইন্টারঅ্যাকটিভ গেম এবং নতুন ধরনের ডিজিটাল বিনোদন অভিজ্ঞতা তৈরি করা সম্ভব হবে। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম টেকক্রাঞ্চকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে স্ন্যাপ।

স্ন্যাপ জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণভাবে এ ধরনের গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার ব্যয় অনেক বেশি হওয়ায় নতুন কোম্পানি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ভিডিও প্রযুক্তির উন্নয়নে বিপুল পরিমাণ কম্পিউটিং অবকাঠামো, দক্ষ জনবল এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ প্রয়োজন হয়। ফলে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং কার্যক্রমে আরও নমনীয়তা আনতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

যদিও ডটমো আলাদা একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করবে, তবুও স্ন্যাপের সঙ্গে এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় থাকবে। স্ন্যাপ নতুন কোম্পানিটিকে তাদের বিদ্যমান প্রযুক্তি গেমিং এবং ইন্টারঅ্যাকটিভ বিনোদন প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারের অনুমতি দেবে। একই সঙ্গে ডটমোর প্রাথমিক দল গঠিত হবে স্ন্যাপের বর্তমান কর্মীদের নিয়ে, যারা প্রতিষ্ঠান ছেড়ে নতুন উদ্যোগটির যাত্রা শুরু করবেন।

ডটমোতে সরাসরি অর্থায়ন করবে না স্ন্যাপ। তবে স্ন্যাপের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ববি মারফি নতুন কোম্পানিটির প্রধান বিনিয়োগকারী হিসেবে যুক্ত থাকবেন এবং প্রতিষ্ঠানটিতে তার উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিগত মালিকানা থাকবে। যদিও তিনি নতুন প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করবেন, তবুও স্ন্যাপের পূর্ণকালীন প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবেন এবং জেনারেটিভ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেবেন।

প্রযুক্তি লাইসেন্স এবং দক্ষ জনবল বিনিময়ের বিনিময়ে ডটমোতে বড় ধরনের মালিকানা অংশীদারিত্ব পাবে স্ন্যাপ। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে ডটমো সফল হলে এই অংশীদারিত্ব স্ন্যাপের জন্য আর্থিকভাবে লাভজনক হতে পারে। পাশাপাশি প্রয়োজন হলে নতুন কোম্পানিটি বাইরের বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকেও অর্থায়ন সংগ্রহের চেষ্টা করবে।

চলতি বছরে এটি স্ন্যাপের দ্বিতীয় বড় স্পিন-অফ উদ্যোগ। এর আগে ২০২৬ সালে প্রতিষ্ঠানটি তাদের স্মার্ট চশমা প্রকল্প ‘স্পেক্স’কে আলাদা কোম্পানিতে রূপ দেয়, যাতে পণ্যটির উন্নয়নে পুরোপুরি মনোযোগ দেওয়া যায়। তবে সম্প্রতি প্রায় ২ হাজার ২০০ ডলার মূল্যের নতুন স্মার্ট চশমা উন্মোচনের পর উচ্চমূল্য নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ তৈরি হয় এবং এর প্রভাব পড়ে স্ন্যাপের শেয়ারদরেও।

এ বছরের শুরুতে স্ন্যাপ আরও একটি বড় পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে যায়। সে সময় প্রায় এক হাজার কর্মী ছাঁটাই করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, ব্যয় কমানো, অগ্রাধিকার পুনর্নির্ধারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি লাভজনকতা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটি ধারাবাহিকভাবে পুনর্গঠনমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে।

ব্যয় কমাতে এআই দল আলাদা করল স্ন্যাপ
ব্যয় কমাতে এআই দল আলাদা করল স্ন্যাপ

স্ন্যাপের একজন প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ডটমো ‘স্পেক্স’-এর মতো নয়। কারণ নতুন প্রতিষ্ঠানটি এমন ডিজিটাল অভিজ্ঞতা তৈরিতে কাজ করবে, যা বর্তমানে স্ন্যাপের মূল ব্যবসায়িক অগ্রাধিকারের অংশ নয়। তবে ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে ডটমো স্ন্যাপের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি অংশীদার হিসেবেও কাজ করতে পারে।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য স্পিন-অফ কৌশল শুধু ব্যয় কমানোর উপায় নয়; এটি নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ, নির্দিষ্ট সম্পদের মূল্য তুলে ধরা এবং সংশ্লিষ্ট দলকে স্বাধীনভাবে কাজের সুযোগ দেওয়ার কার্যকর পদ্ধতিও হতে পারে। ডটমোকে আলাদা প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়ার মাধ্যমে স্ন্যাপ একদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নয়নের আর্থিক চাপ কমাচ্ছে, অন্যদিকে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য সাফল্যের অংশীদার হওয়ার সুযোগও ধরে রাখছে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ

জেনারেটিভ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি উন্নয়নে ব্যয় দ্রুত বাড়ছে এবং বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন ব্যবসায়িক কাঠামো খুঁজছে। স্ন্যাপের এই সিদ্ধান্ত দেখাচ্ছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে টিকে থাকতে প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, স্বাধীন উদ্ভাবন এবং কৌশলগত অংশীদারত্বের সমন্বিত পথ বেছে নিচ্ছে।

Related Articles

Back to top button