দরকারি

২০২৬ সালে বিশ্বভ্রমণ : যেসব নিয়ম জানা জরুরি

Rate this post

নতুন বছর মানেই নতুন পরিকল্পনা। অনেকের কাছে এই সময়টি মানেই ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়ার প্রস্তুতি—নতুন দেশ, নতুন শহর, নতুন অভিজ্ঞতার খোঁজে। ২০২৬ সালে বিশ্বভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন এমন ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য রয়েছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের বার্তা। কারণ পৃথিবী এখন আর আগের মতো নেই। ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং নিরাপত্তা উদ্বেগের পাশাপাশি পর্যটন থেকে রাজস্ব বাড়াতে বিভিন্ন দেশ তাদের ভ্রমণনীতি নতুন করে সাজাচ্ছে।

এর ফলে আন্তর্জাতিক ভ্রমণে যুক্ত হচ্ছে নতুন নিয়ম, ডিজিটাল অনুমতি, বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ ও বাড়তি কর। ভ্রমণে বের হওয়ার আগে এসব পরিবর্তন জানা না থাকলে বিপাকে পড়তে হতে পারে।

২০২৬ সালে বিশ্বভ্রমণ : যেসব নিয়ম জানা জরুরি
২০২৬ সালে বিশ্বভ্রমণ : যেসব নিয়ম জানা জরুরি

ইউরোপে শুরু হচ্ছে বায়োমেট্রিক যুগ

২০২৬ সাল থেকে ইউরোপের শেনজেন অঞ্চলে ভ্রমণের অভিজ্ঞতায় বড় পরিবর্তন আসছে। শেনজেনভুক্ত দেশগুলো ধাপে ধাপে চালু করছে এন্ট্রি-এক্সিট সিস্টেম (ইইএস)। এই ব্যবস্থায় আগের মতো পাসপোর্টে সিল দেওয়ার বদলে সীমান্তে প্রথম প্রবেশের সময় পর্যটকের আঙুলের ছাপ ও মুখের ছবি সংগ্রহ করা হবে।

এই তথ্য সংরক্ষিত থাকবে একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে। পরবর্তী সময়ে সীমান্তে প্রবেশ বা বের হওয়ার সময় সেই তথ্য ব্যবহার করে দ্রুত যাচাই করা হবে ভ্রমণকারীর অবস্থান ও অনুমোদনের মেয়াদ। ইউরোপীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, এতে অবৈধ অবস্থান কমবে এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে। তবে পর্যটকদের জন্য শুরুতে বিমানবন্দর ও স্থলসীমান্তে অপেক্ষার সময় কিছুটা বাড়তে পারে।

যুক্তরাজ্যে ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন বাধ্যতামূলক

যুক্তরাজ্যেও ২০২৬ সাল থেকে ভিসামুক্ত ভ্রমণকারীদের জন্য নতুন নিয়ম কার্যকর হচ্ছে। চালু হচ্ছে ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (ইটিএ)। ফেব্রুয়ারি থেকে যেসব দেশের নাগরিকরা আগে ভিসা ছাড়া যুক্তরাজ্যে ভ্রমণ করতে পারতেন, তাদেরও এখন অগ্রিম ডিজিটাল অনুমতি নিতে হবে।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ইটিএ ছাড়া কোনো যাত্রী বিমানে উঠতেই পারবেন না। পর্যটন বা স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের জন্য এই অনুমতির আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬ পাউন্ড। অনলাইনে আবেদন করে অনুমোদন নিতে হবে ভ্রমণের আগেই।

যুক্তরাষ্ট্রে কঠোর নীতি ও ব্যয়বৃদ্ধি

যুক্তরাষ্ট্র ২০২৬ সালের শুরু থেকেই কিছু দেশের নাগরিকদের জন্য প্রবেশনীতি আরও কঠোর করেছে। ২০২৫ সালে জারি করা এক প্রেসিডেনশিয়াল ঘোষণার বাস্তব প্রয়োগ শুরু হয়েছে এ বছর। এর আওতায় নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের নাগরিকদের জন্য সাময়িকভাবে ভিসা ইস্যু স্থগিত রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ ব্যয়ও বাড়ছে। পর্যটন কর ও বিভিন্ন ফি বৃদ্ধির কারণে দেশটিতে ভ্রমণে আগের তুলনায় বেশি খরচ গুনতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পর্যটন বিশ্লেষকেরা।

মধ্যপ্রাচ্যে এক ভিসায় একাধিক দেশ

উপসাগরীয় অঞ্চলে ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য আসতে পারে সুখবর। জিসিসিভুক্ত দেশগুলো এক ভিসায় একাধিক দেশে ভ্রমণের সুযোগ চালুর পরিকল্পনা করছে। ২০২৫ সালে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও ২০২৬ সাল থেকে ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা রয়েছে।

২০২৬ সালে বিশ্বভ্রমণ : যেসব নিয়ম জানা জরুরি
২০২৬ সালে বিশ্বভ্রমণ : যেসব নিয়ম জানা জরুরি

যদি পরিকল্পনাটি সফল হয়, তাহলে একটিমাত্র ভিসা নিয়ে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতারসহ একাধিক দেশে ভ্রমণ করা সহজ হবে। তবে নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত সমন্বয়ের ওপরই নির্ভর করছে এর বাস্তব রূপ।

এশিয়ায় বাড়ছে যাচাই ও খরচ

এশিয়ার কয়েকটি দেশে অভিবাসন যাচাই আরও কড়াকড়ি করা হচ্ছে। সিঙ্গাপুর ইতিমধ্যে ‘নো-বোর্ডিং নির্দেশনা’ চালুর কথা জানিয়েছে। অর্থাৎ কোনো যাত্রীর কাগজপত্র বা প্রবেশযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হলে বিমান সংস্থাকেই আগেই তাকে বোর্ডিং না করানোর নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।

জাপানেও ভ্রমণ ব্যয় বাড়ার ইঙ্গিত মিলছে। দেশটি আন্তর্জাতিক পর্যটক কর ১ হাজার ইয়েন থেকে বাড়িয়ে ৩ হাজার ইয়েন করার কথা ভাবছে। পাশাপাশি ট্যাক্স-ফ্রি কেনাকাটার নিয়মেও পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে, যা পর্যটকদের খরচে প্রভাব ফেলবে।

ভ্রমণের আগে যা জানা জরুরি

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সালে আন্তর্জাতিক ভ্রমণে বের হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সর্বশেষ ভিসা নীতি, ডিজিটাল অনুমতি ও করসংক্রান্ত নিয়ম ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি। কারণ একটি ছোট তথ্যের ঘাটতিও পুরো ভ্রমণ পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে পারে।

নতুন বছরে বিশ্বভ্রমণ আগের চেয়ে আরও প্রযুক্তিনির্ভর ও নিয়মতান্ত্রিক হয়ে উঠছে। প্রস্তুতি যদি ঠিকঠাক থাকে, তাহলে পরিবর্তিত এই ব্যবস্থার মধ্যেও ভ্রমণ হতে পারে নিরাপদ ও আনন্দময়।

Related Articles

Back to top button