হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা উদ্বেগে নতুন মডেল প্রকাশ ধীর করছে ওপেনএআই
হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা উদ্বেগে নতুন মডেল প্রকাশ ধীর করছে ওপেনএআই। মার্কিন সরকার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করায় ওপেনএআই তাদের নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল জিপিটি ৫.৬ সবার জন্য একসঙ্গে প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দ্য ইনফরমেশন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুরুতে মডেলটি শুধুমাত্র নির্বাচিত কিছু অংশীদারের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সপ্তাহে কর্মীদের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যাম অল্টম্যান জানান, পরীক্ষামূলক পর্যায়ে কোন গ্রাহক মডেলটির ব্যবহার করতে পারবেন, তা সরকার একে একে অনুমোদন করবে। তিনি আরও বলেন, সীমিত পরিসরের এই প্রকাশ সফল হলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য মডেলটি উন্মুক্ত করা হতে পারে।
অর্থাৎ, ওপেনএআই এমন একটি পথ অনুসরণ করছে, যা অ্যানথ্রপিক ইতোমধ্যেই গ্রহণ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী মডেলগুলো প্রথমে সবার জন্য উন্মুক্ত না করে সীমিত সংখ্যক অংশীদারের হাতে তুলে দিচ্ছে।
প্রতিবেদন বলছে, শুধু নতুন মডেল পর্যালোচনাই নয়, ওপেনএআইয়ের এই প্রকাশ পরিকল্পনায় মার্কিন সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন। এ ক্ষেত্রে জাতীয় সাইবার পরিচালক দপ্তর এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নীতি দপ্তর সীমিত আকারে প্রকাশের সুপারিশ করেছে বলে জানা গেছে।
ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন প্রথমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে তুলনামূলকভাবে কম নিয়ন্ত্রণের নীতি গ্রহণ করলেও, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অবস্থান বদলেছে। এ মাসের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে কিছু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানকে নতুন মডেল জনসাধারণের জন্য প্রকাশের আগে সরকারের কাছে স্বেচ্ছায় পরীক্ষার জন্য জমা দেওয়ার আহ্বান জানান।
এর আগে চলতি বছর অ্যানথ্রপিক তাদের ক্লড মিথোস নামের উন্নত সাইবার নিরাপত্তা মডেল শুধুমাত্র সীমিত অংশীদারদের জন্য প্রকাশ করে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছিল। প্রতিষ্ঠানটির দাবি ছিল, মডেলটি এতটাই শক্তিশালী যে ভুল মানুষের হাতে পড়লে বড় ধরনের ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এটি আংশিকভাবে নিরাপত্তাজনিত বাস্তব উদ্বেগ, আবার আংশিকভাবে বিপণন কৌশলও হতে পারে।
বর্তমানে অপরাধীরা দীর্ঘদিন ধরেই স্বয়ংক্রিয় ডিজিটাল আক্রমণ চালানোর বিভিন্ন উপায় ব্যবহার করছে। কিন্তু আধুনিক বৃহৎ ভাষা মডেল আসার পর তারা আরও শক্তিশালী সরঞ্জাম পেতে পারে। এসব মডেল ক্ষতিকর সফটওয়্যার লিখতে সক্ষম, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুক্তিপণভিত্তিক সাইবার আক্রমণ পরিচালনার সক্ষমতাও দেখিয়েছে।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো, এই ধরনের অত্যাধুনিক মডেল মানুষের তুলনায় অনেক দ্রুতগতিতে সফটওয়্যারের দুর্বলতা শনাক্ত করতে এবং সেই দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে আক্রমণের উপায় তৈরি করতে পারে। যেহেতু অধিকাংশ বড় সফটওয়্যার ব্যবস্থায় অজানা ত্রুটি থেকেই যায়, তাই এমন সক্ষমতা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থার জন্য বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তবে এই উন্নত মডেলগুলো সাধারণ মানুষের জন্য এখনো উন্মুক্ত না হওয়ায়, বাস্তবে এগুলোর সক্ষমতা ঠিক কতটা এবং ঝুঁকি কত বড়—তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা এখনও সম্ভব হয়নি।






