প্রযুক্তি সংবাদ

টেলিগ্রাম বন্ধ হতেই ভারতে ভিপিএন ব্যবহারে রেকর্ড

5/5 - (1 vote)
টেলিগ্রাম বন্ধ হতেই ভারতে ভিপিএন ব্যবহারে রেকর্ড। ভারতে জনপ্রিয় বার্তা আদান-প্রদানমাধ্যম টেলিগ্রামের ওপর সাময়িক বিধিনিষেধ জারির পর দেশজুড়ে ভিপিএন ব্যবহারে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে। একই সঙ্গে বিকল্প বার্তা আদান-প্রদান সেবাগুলোর ব্যবহারও দ্রুত বেড়েছে। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম টেকক্রাঞ্চের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
টেলিগ্রাম বন্ধ হতেই ভারতে ভিপিএন ব্যবহারে রেকর্ড
টেলিগ্রাম বন্ধ হতেই ভারতে ভিপিএন ব্যবহারে রেকর্ড

অ্যাপ বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান অ্যাপফিগারস জানিয়েছে, টেলিগ্রামের ওপর বিধিনিষেধ ঘোষণার দিনটি ছিল চলতি বছরে ভারতে ভিপিএন নামানোর সবচেয়ে বড় দিন। সাধারণ সময়ের তুলনায় ভিপিএন ব্যবহারের আগ্রহ হঠাৎ করেই বেড়ে যায়। প্রতিষ্ঠানটির হিসাব অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে এক লাখ ৩৯ হাজার ভিপিএন নামানো হলেও ওই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় দুই লাখ আট হাজারে।

এই প্রবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগীদের মধ্যে রয়েছে প্রোটন ভিপিএন ও টার্বো ভিপিএন। ভারতের অ্যাপলের বিপণিতে প্রোটন ভিপিএন নামানোর সংখ্যা ১১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে টার্বো ভিপিএনের প্রবৃদ্ধি ছিল ৮৫ শতাংশ। অ্যান্ড্রয়েডভিত্তিক বিপণিতেও দুটি সেবার ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জনপ্রিয় কোনো অনলাইন সেবার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হলে ব্যবহারকারীরা দ্রুত বিকল্প উপায় খুঁজে নেন। ভারতে এবারও একই চিত্র দেখা গেছে। কয়েক দিনের মধ্যেই প্রোটন ভিপিএন বিভিন্ন জনপ্রিয়তার তালিকায় একাধিক ধাপ এগিয়ে যায় এবং নতুন ব্যবহারকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।

ভারত সরকার আগামী ২২ জুন পর্যন্ত টেলিগ্রামের ওপর এই সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। সরকারের দাবি, জাতীয় যোগ্যতা ও ভর্তি পরীক্ষার পুনঃপরীক্ষাকে কেন্দ্র করে ভুয়া প্রশ্নপত্র এবং প্রতারণামূলক তথ্য ছড়ানোর কাজে টেলিগ্রাম ব্যবহার করা হচ্ছিল। সে কারণে পরীক্ষার্থীদের সুরক্ষায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তবে টেলিগ্রাম সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পুরো সেবা বন্ধ না করে নির্দিষ্ট ক্ষতিকর বার্তা বা চ্যানেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। বিষয়টি আদালতে গড়ালে দিল্লি উচ্চ আদালত সরকারের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে।

শুধু ভিপিএন নয়, বিকল্প বার্তা আদান-প্রদানমাধ্যমগুলোর ব্যবহারও দ্রুত বেড়েছে। অ্যাপফিগারসের তথ্য অনুযায়ী, সিগন্যাল নামানোর সংখ্যা অ্যান্ড্রয়েডভিত্তিক বিপণিতে ৩২২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে ভাইবার এবং টেলিগ্রামভিত্তিক সেবা ‘আইএমই’-এর ব্যবহারকারীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

তবে সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য হলো, বিধিনিষেধের পরও টেলিগ্রামের ব্যবহার কমেনি। অ্যাপ বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান সেন্সর টাওয়ার জানিয়েছে, ঘোষণার দিন ভারতে টেলিগ্রামের দৈনিক সক্রিয় ব্যবহারকারী ১৭ শতাংশ বেড়েছে। অর্থাৎ অনেক ব্যবহারকারী বিকল্প উপায়ে সেবাটিতে প্রবেশের চেষ্টা করেছেন।

টেলিগ্রাম বন্ধ হতেই ভারতে ভিপিএন ব্যবহারে রেকর্ড
টেলিগ্রাম বন্ধ হতেই ভারতে ভিপিএন ব্যবহারে রেকর্ড

ইন্টারনেট অবকাঠামো প্রতিষ্ঠান ক্লাউডফ্লেয়ারের তথ্যেও একই প্রবণতার ইঙ্গিত মিলেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, টেলিগ্রাম-সম্পর্কিত ইন্টারনেট ঠিকানায় প্রবেশের চেষ্টার সংখ্যা বিধিনিষেধ ঘোষণার পর উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও এসব প্রচেষ্টা সফল হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা আবারও দেখিয়েছে যে জনপ্রিয় ডিজিটাল যোগাযোগমাধ্যমে বিধিনিষেধ আরোপ করলে ব্যবহারকারীরা দ্রুত বিকল্প প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকে পড়েন। একই সঙ্গে অনলাইন স্বাধীনতা, তথ্যপ্রবাহ এবং ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন বিতর্কও সামনে আসে।

Related Articles

Back to top button